বিশ্বসেরা তালিকায় অগ্রগতি নেই ঢাবি ও বুয়েটের

আপডেট : ১১ জুন ২০২০, ০০:৩৪

দেশের শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বিশ্বসেরা ১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায়  স্থান করে দেশের এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতি বছর বিশ্বের সেরা ১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তালিকা প্রকাশ করে সংস্থাটি। সংস্থাটির প্রকাশিত তালিকাকে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য র?্যাংকিংগুলোর একটি বলে মনে করা হয়।

‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র?্যাংকিংস ২০২১’ শীর্ষক এই র?্যাংকিংয়ে এবারো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের অবস্থান ৮০১ থেকে ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। তালিকার ৫০০ র পরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয় না এই র?্যাংকিংয়ে। গতবারের জরিপেও একই অবস্থানে ছিল দেশের এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার কিউএস র?্যাংকিংয়ে ৮০১-১০০০তম অবস্থানে জায়গা পেল ঢাবি ও বুয়েট। এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই র?্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছিল। ঐ বছরের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ৭০১-৭৫০তম। গত দুই বছর তা পিছিয়ে ৮০১-১০০০তম অবস্থানে চলে যায় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ঐ তালিকায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ২১টি ও পাকিস্তানের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে। সার্কভুক্ত অন্য পাঁচটি দেশ থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায় স্থান পায়নি। এশিয়া থেকে অন্যদের মধ্যে চীনের ৫১টি, জাপানের ৪১টি, মালয়েশিয়ার ২০টি, সৌদি আরবের ১০টি, ইরানের পাঁচটি, ইসরাইলের ছয়টি ও সিঙ্গাপুরের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা ১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ইউরোপ থেকে অন্যদের মধ্যে জার্মানির ৪৫টি, ইতালির ৩৬টি, ফ্রান্সের ২৮টি, নেদারল্যান্ডসের ১৩টি ও ফিনল্যান্ডের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে এই তালিকায়। কিউএসের এই র?্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে পাঁচটিসহ মোট ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। শীর্ষ দশে চারটিসহ যুক্তরাজ্যের মোট ৮৪টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এই তালিকায়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বর্তমানে রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের কাছে গবেষণার চেয়ে পদের স্বাদটা বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন গবেষণার চেয়ে পদ গুরুত্ব হয়ে ওঠে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তিরোহিত হয়।’ এ সময় শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং প্রকাশ করে তারা বাণিজ্যিক উদ্দেশে এসব নির্ধারণ করে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্যিক র্যাংকিংয়ে বিশ্বাস করে না। তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগের চেয়ে ভালো করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ গবেষণার প্রতি আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষকরা এখন বিশ্বের সেরা-সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি আনছেন। সেজন্য টিচিং কোয়ালিটি নিম্নগামী হবার বিষয়টির সঙ্গে একমত হবার কারণ নেই।