আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ—চলতি বছরে অনুষ্ঠেয় ক্রিকেট দুনিয়ার দুটি বড়ো টুর্নামেন্ট। কিন্তু দুই টুর্নামেন্টকেই চোখ রাঙাচ্ছে মহামারি রূপ ধারণ করা করোনা ভাইরাস। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দুটি টুর্নামেন্ট। নির্ধারিত সময়ে বিশ্বকাপ, এশিয়া মাঠে গড়ানো নিয়ে সংশয় বিরাজ করছে।
বিশ্বকাপের আয়োজক আইসিসি (ইন্টারন্যাশল ক্রিকেট কাউন্সিল), এশিয়া কাপের আয়োজক এসিসি (এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল) পড়েছে বিপাকে। সংস্থা দুটির আয়ের বড়ো উত্স এসব আসর। আরো কয়েক মাস দূরে আছে বলে কিনা কিছুটা সময় ক্ষেপণের নীতিতে এগুচ্ছে দুই সংস্থা। এশিয়া কাপ সেপ্টেম্বরে, বিশ্বকাপ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ধীরে চলো নীতির অবলম্বন করে এখনো টুর্নামেন্টগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি আইসিসি, এসিসি।
সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির আশায় দিন পার করছে দুটি সংস্থা। বিশ্বকাপ নিয়ে কয়েকটি মিটিংয়ের পর এখন জুলাই পর্যন্ত সময় নিয়েছে আইসিসি। এসিসি চলতি মাসের শেষ দিকে এশিয়া কাপের ভবিষ্যত্ জানাবে বলেছে।
দুই সংস্থার সদস্য দেশগুলোও একইভাবে টুর্নামেন্ট দুটির ভাগ্যের পানে চেয়ে আছে। এখানে তাদেরও স্বার্থ জড়িত। সদস্য দেশ হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে আয়ের একটা অংশ পেয়ে থাকে ক্রিকেট বোর্ডগুলো। আর করোনার কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকায় বোর্ডগুলোর আয়ও কমে গেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) আশায় আছে নির্ধারিত সময়ে হবে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ। তাছাড়া এশিয়া কাপের মাধ্যমে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সেরে নেওয়ার দিকে দৃষ্টি আছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর। গতকাল এ সম্পর্কে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘আমরা এখনো আশাবাদী দুটি টুর্নামেন্টই (বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ) হবে কারণ কোনোটাই এখনো স্থগিত করা হয়নি। তবে এটা নির্ভর করছে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে কত দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।’
দুই টুর্নামেন্ট পূর্ব ঘোষিত সূচিতে হলে করোনার ধাক্কায় হওয়া আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে বিসিবি। করোনার কারণেই জাতীয় দলের নতুন টাইটেল স্পন্সর, সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করতে পারছে না বিসিবি। প্রাদুর্ভাবের এ কঠিন সময়ে স্পন্সর পাওয়া কঠিন কর্মই বটে।
আশার আলো অবশ্য কিছুটা দেখা দিয়েছে। করোনার থাবা কাটিয়ে না উঠলেও কয়েক মাস বিরতির পর জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল।
আগামী এক মাসে কিছুটা উন্নতি হলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু নিয়ন্ত্রিত উপায়ে করতে পারলে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ মাঠে গড়াতে পারে। বিসিবির মতো সব বোর্ডই এখন দুই টুর্নামেন্ট খেলার আশায় দিন গুণছে।
