ফল

আম

আপডেট : ১১ জুন ২০২০, ২১:২৮

কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ রং হয়ে থাকে। ভারতের জাতীয় ফল। বাংলাদেশ এবং ভারতে যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica। Anacardiaceae পরিবারের সদস্য। পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে—ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসা, আম্রপালি ইত্যাদি। ২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর আমগাছকে আমাদের জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষ বেশি হয়। স্বাদে-গন্ধে-রঙে-রসে আম অতুলনীয়।

আমগাছ সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ মিটার (১১৫-১৩০ ফিট) লম্বা এবং সর্বোচ্চ ১০ মিটার (৩৩ ফিট) ব্যাসার্ধের হয়। বহু বছর বাঁচে, কিছু প্রজাতি ৩০০ বছর বয়সেও ফল দেয়। এর প্রধান শিকড় মাটির নিচে প্রায় ৬ মিটার (২০ ফিট) গভীর পর্যন্ত যায়। আমগাছের পাতা চিরসবুজ, সরল, পর্যায়ক্রমিক, ১৫-৩৫ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ৬ থেকে ১৬ সেন্টিমিটার চওড়া হয়ে থাকে; কচি পাতা দেখতে লালচে-গোলাপি রঙের হয়। আমের মুকুল বের হয় ডালের ডগা থেকে, প্রজাতিভেদে মুকুল থেকে শুরু করে আম পাকা পর্যন্ত প্রায় তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে।

আমে প্রচুর ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, খনিজ পদার্থ ও ক্যালোরি রয়েছে। ভিটামিন এ-র দিক থেকে আমের স্থান পৃথিবীর প্রায় সব ফলেরই ওপরে। USDA Nutrient Database অনুসারে প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) আমে ৬০ কিলোক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়।

আমের মধ্যে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কোলনসহ প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। স্তন ক্যানসার ও লিউকোমিয়ার ক্ষেত্রেও আমের উপকার লক্ষণীয়। এতে প্রচুর পরিমাণে এনজাইমও থাকে। ত্বকের যত্নেও অনেক উপকারী। ভেতর ও বাইরে থেকে ত্বককে সুন্দর রাখতে সাহায্য করে আম। ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া চোখের জন্যও উপকারী। মানুষের শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ-র চাহিদার প্রায় পঁচিশ শতাংশের জোগান দিতে পারে আম। ভিটামিন এ চোখের জন্য খুবই উপকারী। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি এবং রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা, পুরনো আমাশয় এবং প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা উপশম করে। আমে পাওয়া যায় টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড, যা শরীরে অ্যালকালাই বা ক্ষার ধরে রাখতে সহায়তা করে। আমে আছে এনজাইম যা শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও আমে আছে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনয়েডস যা ইমিউন সিস্টেমকে রাখে সুস্থ ও সবল।