পৌর এলাকায় পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা

আপডেট : ১১ জুন ২০২০, ২১:৪৭

সহযোগী একটি দৈনিকে একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। বলা হইয়াছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পৌর শহরের সম্প্রসারিত এলাকায় যেই সমস্ত সড়ক তৈরি করা হইয়াছে, তাহার সহিত কোনো ড্রেনেজের সুবিধা রাখা হয় নাই। ফলে পৌর এলাকার এই বর্ধিত অংশের বাসিন্দারা নানা প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হইতেছেন। যাহারা রাস্তার পাশ ঘেঁষিয়া বাড়িঘর তুলিতেছেন তাহারা পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা হইতে বঞ্চিত হইতেছেন। এমনকি পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে নিজেদের বাড়িঘর তুলিতে পারিতেছেন না। বলা বাহুল্য,  সংবাদটি কোটালীপাড়া পৌর এলাকা লইয়া হইলেও এই রকম দৃশ্য দেশের বহু পৌর এলাকায় বর্তমান। এই সুবিধা না থাকায় যে কেবল বাড়িঘর তৈরিতেই সমস্যা হইতেছে তাহা নহে। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে অল্প বৃষ্টিপাতেই পানি জমিয়া চলাফিরায় বিঘ্ন ঘটিয়া থাকে, রাস্তার ময়লা-আবর্জনা সরিতে পারে না এবং এই বন্ধ্যত্বের কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। 

আমরা জানি, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরের এলাকা হইয়া থাকে ঘনবসতিপূর্ণ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন পৌরসভা গঠন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা আছে, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ১ হাজার ৫০০-এর কম হইবে না। অর্থাত্ এই পৌর এলাকার জীবনব্যবস্থা ও অবকাঠামো কোনোক্রমেই গ্রামাঞ্চলের মতো হইবে না। স্বভাবতই এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করিয়া সড়কের সহিত পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা একটি অপরিহার্য শর্ত। এই শর্তটি কেন উপেক্ষিত থাকিবে? একটি পৌরসভার প্রায় সকল দায়িত্ব থাকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর। মেয়র রহিয়াছেন, এলাকাভিত্তিক কাউন্সিলর রহিয়াছেন। ইহার পাশাপাশি পৌর এলাকায় থাকে নগর পরিকল্পনা শাখা ও পূর্ত শাখা। ইহা ছাড়া যাবতীয় সেবামূলক কাজের পুরাটাই এই স্থানীয় প্রতিনিধিদের দেখভাল করিবার কথা। বিশেষ করিয়া আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য পানি সরবরাহ, পানি ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করিবার কার্যাবলি তাহাদেরই করিবার কথা। প্রশ্ন হইল, তাহারা বিশেষ করিয়া দুই পাশে ঘনবসতিপূর্ণ সড়কগুলিতে পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থার বিষয়টি না রাখিয়া সড়ক তৈরি পরিকল্পনা অনুমোদন করেন কী করিয়া? অন্যদিকে এই সকল কার্যাবলি স্থানীয় প্রতিনিধিরা করিতে অক্ষম হইলে সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে বলিয়া স্থানীয় সরকারের নির্দেশাবলিতে উল্লেখ আছে। অর্থাত্ কোনো পৌরসভা প্রয়োজনীয় সেবা দিতে ব্যর্থ হইলে সরকারের সংশ্লিষ্টমহল ব্যবস্থা লইতে পারেন। তাহারাই কি অপরিকল্পিত ও অব্যবস্থাপনা বিদ্যমান পৌর এলাকার সম্পর্কে সঠিকভাবে খোঁজ রাখিতেছেন?

আধুনিক সময়ে একটি শহর, তাহা যত ছোটোই হউক না কেন, সঠিক পরিকল্পনা অনুসরণ করিয়া গড়িয়া তুলিতে হয়। উল্লিখিত কোটালীপাড়া পৌর এলাকা যাত্রা শুরু করিয়াছে ১৯৯৭ সালে। এই পৌর এলাকা পরিকল্পনামাফিক গড়িয়া তোলার সুযোগ ছিল এবং এখনো রহিয়াছে বলিয়া আমাদের মত। শুধু কোটালীপাড়া নহে, দেশের বহু ছোটো-বড়ো পৌর এলাকা সম্পর্কে এই ধরনের অব্যবস্থার সংবাদ প্রায়শই পত্রিকার পাতায় ছাপা হইয়া থাকে।  সেই সকল পৌর এলাকায় শহর অবকাঠামো গড়িয়া তোলার নিয়ম যাহাতে সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় তাহা নিশ্চিত করিতে হইবে।