প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করায় কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে :হাতে তৈরি খাবার, গুঁড়া দুধ, রং, অনলাইন খাবার, অনলাইন কেনাকাটা, সোডিয়াম সালফেড, আয়রন স্টিল, স্ক্রু, বার্নিস, বাইসাইকেল, কম্প্রেশার শিল্পে ব্যবহূত উপকরণ, বিদেশি মোটরসাইকেল, বডি স্প্রে, স্মার্টফোন, ফলের জুস, আমদানি করা পেঁয়াজ, বিদেশি মধু, বোতলজাত পানি, আমদানি করা অ্যালকোহল, কোমল পানীয়, পলিথিন ব্যাগের দাম প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়তে পারে। আরো যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে—এয়ারকন্ডিশনার, প্রসাধনী সামগ্রী, মোবাইল ফোন সেবা খরচ, ইন্টারনেট সেবা, বিড়ি ও সিগারেট, আলোকসজ্জাসামগ্রী, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন খরচ, গাড়ি, শ্যাম্পু, চকলেট, বিদেশি টিভি। তবে বাজেটে বলা হয়েছে, বাজেটকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে এমন কোনো উপকরণ বাজেটে রাখা হয়নি।
সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য :সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রস্তাবনা করা হয়। প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৩৯ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং সম্পূরক শুল্ক ৫৭ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করছি। এছাড়া, মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার দাম ৬৩ টাকা ও তদূর্ধ্ব, উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ৯৭ টাকা ও তদূর্ধ্ব, অতি-উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১২৮ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং এই তিনটি স্তরের সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি। আরো বলা হয়, যন্ত্রের সাহায্য ব্যতীত হাতে তৈরি ফিল্টারবিহীন বিড়ির ২৫ শলাকার দাম ১৪ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৮ টাকা, ১২ শলাকার দাম ৬.৭২ টাকা হতে বৃদ্ধি করে ৯ টাকা ও আট শলাকার দাম ৪.৪৮ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ছয় টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করছি। ফিল্টার সংযুক্ত বিড়ির ২০ শলাকার দাম ১৭ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৯ টাকা ও ১০ শলাকার দাম ৮.৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৪০ শতাংশ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করছি। পাশাপাশি বলা হয়, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৪০ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশ এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের দাম ২০ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।
ইন্টারনেট :ইন্টারনেট ওপর খরচ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ই-কমার্সে কেনাকাটায় এবং অনলাইনে ফুড অর্ডার করার ক্ষেত্রে খরচ ধার্য করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের সিম/রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে দেওয়া সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো, ভয়েস কল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বাড়তে পারে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লঞ্চ :শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লঞ্চের ভ্যাট বাড়ানোর হয়েছে। এটি ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এখন থেকে এসি কেবিনের জন্য বেশি ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের। আগে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লঞ্চে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের মূল ভাড়ার ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হলেও এখন থেকে দিতে হবে ১০ শতাংশ।
হেলিকপ্টার-চার্টার্ড বিমান :হেলিকপ্টার ও চার্টার্ড বিমান ভাড়ার ওপর সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে।
বিদেশি মদ :বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাব করায় শিল্প কারখানায় ব্যবহূত বা খাবারযোগ্য মদের দাম বাড়তে পারে। বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে আমদানি করা অ্যালকোহল বা বিদেশি মদ রয়েছে।
কার ও জিপের রেজিস্ট্রেশন :কার ও জিপ রেজিস্ট্রেশনসহ বিআরটিএ প্রদত্ত অন্যান্য সার্ভিস ফির ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আসবাব :আসবাব কেনায় মূসক বেড়েছে। ৫ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে।
বিদেশি পেঁয়াজ:পেঁয়াজের উত্পাদন বাড়াতে চাষিদের উত্সাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্কারোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
