মোবাইল ফোন গ্রাহকদের খরচ আরো বেড়ে গেল। শুধু মোবাইল ফোনে কথা বলাই না, ইন্টারনেট ব্যবহারেও খরচ বেড়ে গেল। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষিত বাজেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর গ্রাহক পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আগে যেটা ছিল ২৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। এখন ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পর সেটা দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এই ট্যাক্স বৃদ্ধির ফলে ১০০ টাকা রিচার্জে সরকারের কাছে কর হিসেবে যাবে ২৫ টাকার কিছু বেশি। এতদিন তা ২২ টাকার মতো ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মোবাইল সেবায় কর বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষ চাপে পড়বে।
গতকাল ঘোষিত নতুন অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাব করেছেন। চলতি অর্থ বছরে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল আছে। এর সঙ্গে যোগ হলো আরো ৫ শতাংশ। সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি বর্তমানে গ্রাহকরা ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আরো এক শতাংশ সারচার্জ দিয়ে আসছে সরকারকে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত বারোটা থেকেই কার্যকর হতে পারে নতুন এই ট্যাক্স কাঠামো। ফলে রাত বারোটা থেকেই বাড়বে গ্রাহকের খরচ।
নতুন ট্যাক্স কাঠামোতে এক জন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে তিনি সবমিলে ৭৫ টাকার সেবা পাবেন। মোবাইল অপারেটররা বলছেন, প্রতি বছরই দফায় দফায় টেলিকম সেবার ওপর ট্যাক্স বৃদ্ধি সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনের পরিপন্থি। তারা বলছেন, আগে থেকেই টেলিকম খাতে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ ট্যাক্স রয়েছে বাংলাদেশে। এখন এই পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে। নতুন ট্যাক্স কাঠামোতে গ্রাহকের জন্যে গুণগত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মনে করেন তারা। তবে মোবাইল হ্যান্ডসেট উত্পাদন ও সংযোজনের ক্ষেত্রে ভ্যাট এবং ট্যাক্স সুবিধা আগের মতোই রাখা হয়েছে।
এনবিআর ও মোবাইল অপারেটরদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোবাইল সেবার ওপর ১ শতাংশ সারসার্জ আরোপ করা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আরোপ হয় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ও ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে সম্পূরক শুল্ক আরো বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির হিসেবে, তাদের মোট রাজস্ব আয়ের ৫৩ থেকে ৫৬ শতাংশই সরকারের কোষাগারে বিভিন্ন কর ও ফি বা মাশুল হিসেবে চলে যায়।
প্রসঙ্গত, দেশে গত মার্চ শেষে মোবাইল গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৫৩ লাখের বেশি। ধনীদের পাশাপাশি গরিব মানুষও মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। ফলে করোনার এই দুর্যোগে গরিবের ওপর চাপটা একটু বেশিই পড়বে।
মোবাইল অপারেটরদের প্রতিক্রিয়া : মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে মোবাইল টেলিকম খাতের অবদান যত উল্লেখযোগ্যই হোক না কেন, সরকার নিয়মিতভাবে প্রতি বছর এই খাতের ওপর আরো বেশি করে করের বোঝা চাপিয়ে একে আরো দুর্বল করে তুলছে। গ্রাহকদের ওপর ফেলছে বাড়তি চাপ। ফলে দেশের জিডিপিতে মোবাইলের বর্তমান অবদান ৭ শতাংশ থেকে যে দুই অঙ্কের ঘরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল তা আর অর্জিত নাও হতে পারে।
এ বছর সরকার মোবাইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত সকল রকম সেবার ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এর ফলে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। এ বিষয়ে এসআরও জারি হওয়ায় তা বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই কার্যকর হবে। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এমনিতেই মানুষদের মধ্যে যখন নাভিশ্বাস উঠেছে, মোবাইল মাধ্যম হয়ে উঠেছে সব যোগাযোগের মূল চালিকা ও দেশ ডিজিটাল ইকোনমির দিকে এগিয়ে চলছে। ঠিক সে সময় এ ধরনের করের বোঝা কোনোভাবেই দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় হয়ে উঠবে।
