বসুন্ধরা কিংসের আক্রমণভাগের ফুটবলার অধিনায়ক দানিয়েল কলিন্দ্রেসকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে তার ক্লাব। ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান জানিয়েছেন বিদায় না করে উপায় ছিল না। সেপ্টেম্বরে ফুটবল ক্যাম্প শুরু হবে। তখন থেকে চুক্তি শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং তার আগ পর্যন্ত নির্ধারিত একটা বেতন দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেন রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা কলিন্দ্রেস। করোনা ভাইরাসের কারণে খেলা না হওয়ায় এই রাশিয়ানকে বসিয়ে বসিয়ে প্রায় কোটি টাকা বেতন দিতে হয়েছে। ক্লাব কর্মকর্তা বললেন, ‘ক্যাম্প শুরু হলে চুক্তি শুরু করার কথা গ্রহণ করেননি কলিন্দ্রেস।’ কলিন্দ্রেসের খেলা দেখবে না বাংলাদেশের ফুটবল দর্শক। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবল দর্শক মাঠে বসে বারকোসের খেলা দেখতে পারবেন কি না আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এএফসির খেলা ঢাকায় হবে না। এই হিসেবে কলিন্দ্রেস এবং বারকোসের ফুটবল নৈপুণ্য উপভোগ করতে পারবে না। বসুন্ধরার সভাপতি ইমরুল হাসানও বললেন, ‘নতুন ফুটবল মৌসুম যদি নির্ধারিত সময়ে না হয় তাহলে দর্শক এ বছর হয়তো বারকোসের খেলাও দেখতে পারবে না।’
ঢাকার ফুটবল দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। এখন এমন কোনো ফুটবলার নেই তার পায়ের কাজ দেখে মাঠে আসবেন দর্শক। আমদানিকৃত বিদেশি ফুটবলারদের মধ্যে সেই ছোঁয়াটা খুঁজে পাওয়া কঠিন। এতো না পাওয়ার মধ্যেও বসুন্ধরা কিংস বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার কলিন্দ্রেসকে এনেছিল। আর্জেন্টাইন তারকা মেসির সতীর্থ বারকোসকে এনে তাক লাগিয়েছিল। দর্শক এএফসি কাপে মালদ্বীপের ক্লাবের বিপক্ষে বারকোসের খেলায় মুগ্ধ হয়েছিল। ঢাকায় খেলা না হলে হয়তো বারকোসকে মিস করবে দর্শক।
জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন ফেসবুকে দেখেছেন কলিন্দ্রেসের বিদায়। প্রথমে একটু মন খারাপ করলেও তার খেলা মিস করবেন তিনি। ছোটন বলছেন, ‘অনেক ভালো মানের ফুটবলার ছিল। অনেক ম্যাচ এককভাবে ত্রাণকর্তা হয়ে ম্যাচ বের করেছেন কলিন্দ্রেস। গোল করেছেন, গোল করিয়েছেন।’
চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ সাইফুল বারী টিটু বললেন, ‘কলিন্দ্রেসকে মিস করবে দর্শক। বলছিলেন নিকট অতীতে এমন ভালো ফুটবলার আসেনি। যদিও তার ক্যারিয়ার শেষদিকে। তারপরও এখনকার সময়ে এ ধরনের খেলোয়াড় দেখা যায় না। আমরা তাকে মিস করব। দর্শকও কলিন্দ্রেসকে মিস করবে। কারণ উইথ বল, উইদাউট বলে দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড় ছিলেন।’
কলিন্দ্রেসের বিপক্ষে খেলেছেন আবাহনীর গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল। খুব কাছ থেকে দেখেছেন কলিন্দ্রেসের ক্ষিপ্রতা। সোহেল বললেন, ‘এমন ভালো প্লেয়ার বাংলাদেশে কমই আসে। একটা গেম চেঞ্জ করার মতো দারুণ ক্ষমতা ছিল। দর্শক মিস করবে কলিন্দ্রেসকে।’
