প্রায় প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড হচ্ছে। বাংলাদেশে নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৬ জন, নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৭১ জন। ক্রমবর্ধমান এই পরিসংখ্যানই বলে করোনার রাহু থেকে সহসা মুক্তি মিলছে না বাংলাদেশের।
সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষ হয়েছে গত ১ জুন। সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পরই অনেক ক্রিকেটার একাকী অনুশীলনের অনুমতি চেয়েছিলেন বিসিবির কাছে। কলকারখানা খুলেছে, অফিস-আদালত, গণপরিবহন চলছে। যা দেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে একাকী অনুশীলন করতে চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিমের মতো পরিশ্রমী ক্রিকেটারদের কেউ কেউ। কিন্তু গত এক সপ্তাহে দেশ জুড়ে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। পরিবেশও সন্তোষজনক নয়, বরং দুশ্চিন্তার।
করোনার এই চিত্রই কি না ক্রিকেটারদের আগ্রহে ভাটির টান ফেলেছে। নতুন করে কেউ আর অনুশীলনের অনুমতি চাননি বিসিবির কাছে। গতকাল বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেছেন, যারাই অনুশীলন করতে চেয়েছে তাদেরকে নিরুত্সাহিত করেছি আমরা। এখন আর কেউ চায়নি।
সরকারের সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পরই খবর আসে, বিসিবির কাছে একাকী অনুশীলনের অনুমতি চেয়ে পাননি মুশফিক। পরে নাকি আরো কয়েকজন ক্রিকেটার অনুমতি চেয়েছিলেন। তখন গণমাধ্যমকে আকরাম খান বলেছিলেন, চলতি সপ্তাহ থেকে একাকী অনুশীলনের অনুমতি দেওয়া হবে ক্রিকেটারদের।
কিন্তু গতকাল জানা গেল, অনুশীলনের অনুমতি আর চাননি কেউ। দেশব্যাপী সার্বিক করোনা পরিস্থিতির নিম্নগামীতাই হয়তো একাকী অনুশীলনের চিন্তা বাদ দিতে বাধ্য করেছে ক্রিকেটারদের।
মিরপুর স্টেডিয়ামে ক্রিকেটারদের একাকী অনুশীলন কবে শুরু হবে জানতে চাইলে গতকাল আকরাম খান বলেছেন, ‘আমরা আসলে উত্সাহ দিচ্ছিলাম না। অনেকে ঈদের আগে থেকে চাইছিল। তারপর ওরকম আর কেউ চায়নি। ওরা যখন চাচ্ছিল তখন আমরা ওই রকম উত্সাহ দেইনি। তারপরও মাঠ প্রস্তুত রেখেছি, যদি কেউ চায় তাহলে করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ চায়নি।’
এদিকে চলতি মাসে (জুন) বাংলাদেশে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই দেখেন না জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। গতকাল তিনি বলেছেন, এই মাসে কিছু শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখি না। পরিস্থিতির উন্নতি হলে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হতেও পারে।
এখন একাকী অনুশীলন করাটাও ঠিক নয় মনে করেন প্রধান নির্বাচক। তাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যাবে। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘আপনি যে কারো মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারেন। পানির বোতল থেকেও হতে পারে। তাই নিরাপদ থাকাই ভালো।’
