চা-শ্রমিকদের দৈনিক সর্বোচ্চ মজুরি ১০২ টাকা। প্রতি দুই বছর অন্তর শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যে চুক্তি রয়েছে তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে আঠারো মাস। এরই মধ্যে করোনা মহামারির ঝুঁকি নিয়েও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া আগের মজুরিতে কাজকর্মে তাদের জীবনধারণ চলছে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে স্বল্প মজুরিতেও দুঃখ-কষ্টে পাঁচ, সাত সদস্যের শ্রমিক পরিবারের সংসার চালাতে হচ্ছে। মজুরি বৃদ্ধির চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে জানান চা-শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। মৌলভীবাজার চা-শ্রমিক সংঘের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী বলেন, একদিকে করোনা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করানো হলেও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। আঠারো মাস সময় চলে গেল, এখনো চা-শ্রমিকদের মজুরি চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো উদ্যোগ নেই। চা-শ্রমিক রাম নারায়ণ গৌড়, সুনীল কর, গীতা রবিদাস, পুলিন্তি রবিদাসসহ শ্রমিকরা বলেন, ‘চা-বাগানে আমরা মাত্র ১০২ টাকা দৈনিক মজুরিতে পাঁচ, সাত জন সদস্য নিয়ে সংসার চালাই। সপ্তাহে এই মজুরি পাওয়ার পর কারেন্ট বিল, অনুষ্ঠান চাঁদা, ইউনিয়ন চাঁদা এসব কর্তনের পর পাঁচ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা থাকে। এই টাকায় মাছ, শাকসবজি কিনে ঠিকমতো আমাদের একবেলাই খাবার চালানো যায় না। অথচ করোনা ভাইরাসের সময়েও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি।’
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই চা-বাগানে শ্রমিকরা কাজ করছেন। মজুরি চুক্তির বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছি।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ চা সংসদ সিলেটের চেয়ারম্যান জি এম শিবলী মোবাইল ফোনে ইত্তেফাককে বলেন, বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।
