সময়টা এখন কঠিন। ঘরে ও বাহিরে, সর্বত্রই বিরূপ পরিবেশ। কারণ, বিশ্বমন্দা ও করোনার অভিঘাত। গত এক শত বত্সরেও এই রকম মন্দার মুখোমুখি হয় নাই বিশ্ব। করোনা তো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করিয়াছে। মানুষের এখন বাঁচিয়া থাকিবার লড়াই চলিতেছে। করোনা হইতে বাঁচিবার, দুই বেলা অন্ন জোগাইবার এই সংকটের সময়ে সামনে চলিয়া আসিয়াছে আগামী বত্সরের বাজেট। অর্থনীতির এই দুঃসময়ে মানুষের মুখে খাবার নিশ্চিত করাও ক্রমেই কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। বিশ্বনেতারা উদ্বিগ্ন হইয়া সমানে টাকা ঢালিতেছেন তাহাদের জনগণের জন্য। এই অবস্থায় নতুন অর্থবত্সরের বাজেটটি কেমন হইবে তাহা লইয়াও কানাঘুষা কম হয় নাই। কিন্তু সবাইকে বিস্মিত করিয়া দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এই কঠিন সময়ে, তিনি যেন কঠিনেরেই ভালোবাসিলেন। বিশাল ব্যয়ের স্বপ্ন দেখাইলেন মানুষকে। বলিলেন, খাদ্য ও চাকরির ব্যবস্থা করিবই করিব।
চারিদিকে যখন বিরূপ পরিস্থিতি—হতাশা, ব্যর্থতা আর পিছু হটিবার দৃশ্য, তখনই সাহসী-স্বপ্নবাজ এই নায়ক দৃঢ়চিত্তে ঘোষণা করিলেন আগামী বত্সর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও হইবে ৯ শতাংশ। শুনিয়া অনেকেই হয়তো মুখ টিপিয়া হাসিবেন। কিন্তু ইহাই সত্য হইবে যদি ভোগ ব্যয় বাড়াইয়া বাজেটের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়। অর্থমন্ত্রীও বলিয়াছেন, যেইভাবে এই বাজেটটি তিনি সাজাইয়াছেন সেইভাবে তিনি ইহা বাস্তবায়ন করিতে পারিবেন। তাহার এই বিশ্বাস বাস্তব করিতে হইলে দরকার অর্থ ঢালা, সঠিক তদারকি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতাগুলি দূর করা। আমরা আশাবাদী যে, তিনি ইহা করিতে পারিবেন। ইতিপূর্বেও আমরা দেখিয়াছি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে তিনি যেইভাবে ঢালিয়া সাজাইয়াছেন, তাহা কেহ চিন্তাও করিতে পারেন নাই। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে তিনি রূপ দিয়াছিলেন, ‘যেইখানে আপনার একটি স্বপ্ন আছে’। এখন অর্থমন্ত্রী হিসাবে সংকটকালেও তিনি আরেক স্বপ্ন দেখাইলেন। ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করিবেন এবং এই টাকা কোথা হইতে আসিবে তাহা তিনি ভাবেন নাই বলিয়াও সুস্পষ্ট বলিয়াছেন। মূলত তিনি গুরুত্ব দিতে চাহিয়াছেন যে, এই সময়ে খরচ করিতে হইবে। মানুষকে বাঁচাইতে হইবে। তাহার মতে, গ্রামীণ অর্থনীতির যাহা খারাপ হইয়াছে তাহা ঠিক করিবার জন্য আগে খরচ করিতে হইবে। আয় পরে করিলেও চলিবে। তিনি বলিলেন, ‘আয়ের জন্য অপেক্ষা না করিয়া মানুষ বাঁচাইবার চেষ্টা করিব আগে। ...অন্ধকার অমানিশা শেষ হইয়া আলোর মুখ দেখিব।’
অর্থমন্ত্রীর এই আশাবাদে গোটা দেশবাসীও আশান্বিত হইয়াছে বোধ করি। আগেই বলিয়াছি সময়টা এখন কঠিন। এই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াইবার মানসিক শক্তি ও সাহস কেবল তাহাদেরই থাকিতে পারে, যাহারা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। আমাদের অর্থমন্ত্রীও সেই দলে বলিয়াই আমাদের বিশ্বাস। ইতিমধ্যেই তিনি সেরা অর্থমন্ত্রীর স্বীকৃতি পাইয়াছেন। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি বাজেট প্রণয়ন করিয়াছেন এবং বাস্তবায়নও করিতে পারিবেন। তাহার রহিয়াছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি। যাহা শুধু এই বাজেট বাস্তবায়নেই নহে—দেশের অর্থনীতিকে আগাইয়া নিতে তথা ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য যথেষ্ট। আমরা আবারও শুনিতে চাহি বিশ্বব্যাংকের মুখে—করোনাকালেও বাংলাদেশের অর্জন অবিশ্বাস্য, সত্যিই ‘মিরাক্যাল’।
