‘জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’—সৃষ্টির উদ্দেশ্য, স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক, সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়ার উপায় নিয়ে জগত্ সংসারে এমন অনেক দৃষ্টান্ত ও তত্ত্ব কথার প্রচলন রয়েছে, যার অনেক কিছু সম্পর্কে আমরা জ্ঞাত নই। বৈশ্বিক এক মহামারি, দুর্যোগ এবং আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯); যার প্রাদুর্ভাব বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিশ্ব জনগোষ্ঠীকে নির্মম অসহায়ত্বের মাঝে ফেলে দিয়েছে। এর কুপ্রভাবে এই ছোট্ট দেশটিও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি। অসহায়ত্বের অথৈ জলে হাবুডুবু খেতে হচ্ছে দেশবাসীকে। করোনার প্রাদুর্ভাবে লকডাউনের শুরুতেই দোকানপাট ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে সর্বপেশার মানুষ। সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা নানা রকমের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াচ্ছে অভাব তাড়িত ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে। করোনা প্রাদুর্ভাবকালে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যার যতটুকু সম্ভব সহায়তা করছেন। যেমন করেই হোক, যতটুকুই হোক-এই মহানুভবতার জন্য সেবা দানকারীরা অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্তির দাবিদার। সেবা, সহায়তা ও মহানুভবতা নিয়ে নানা ধরনের তত্ত্ব ও তথ্য থাকলেও এখানটায় তুলে ধরা হচ্ছে ভিন্নতর এক সেবার কথা।
দেশ জুড়ে করোনা আতঙ্ক। নিঝুম রাত। অনুসন্ধানমূলক কাজ শেষে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূর থেকে ফিরতি পথে এক অভিনব দৃশ্যের। বড়ো একটা বাজার। সৌর বাতির মৃদু আলোতে কুকুরের মেলা। পাউরুটি, কলা, বিস্কুট হাতে কয়েক জন। কুকুর ঐ মানুষগুলোর হাত থেকে খাবার নিয়ে খাচ্ছে আর লেজ নেড়ে মনের আনন্দে ঘুরঘুর করছে। আমাকে দেখে ওদের চোখেও বিস্ময়ের ছাপ। চৌকিদার-দফাদারদের নিয়ে রাতের বেলা কাজটি করছিলেন ঢাকার ধামরাইয়ের এক জনপ্রতিনিধি সুয়াপুরের ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাব। কুকুরগুলোকে খাবার দিতে দিতে বললেন, লকডাউনের কারণে হোটেল, মিষ্টির দোকানসহ অন্যান্য খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় বিচরণকারী কুকুর-বিড়াল ও পক্ষীকুল অভুক্ত হয়ে পড়েছে। ওরা ক্ষুধার্ত। কর্মহীন, অসহায়, দরিদ্র, ক্ষুধার্ত মানুষকে আমরা ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছি। অভুক্ত মানুষের পাশাপাশি এই অভুক্ত পশুগুলোর কথাও আমাদের অবশ্যই ভাবা উচিত। মানুষ যেমন—স্রষ্টার সৃষ্টি, ওরাও স্রষ্টারই সৃষ্টি। ওরাও মানুষের মতোই ক্ষুধার্ত। তাই এলাকার অভুক্ত পশুপাখির জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছি। মানুষের যেমন আমাদের কাছে সেবা প্রাপ্তির অধিকার রয়েছে, এরকম অনেক জায়গায় অনেকেই হয়তো পশুপাখিকে খাওয়া দিয়ে যাচ্ছেন, এটা যে একটা মহানুভব কাজ তাই সবাইকে এ বিষয়েও দৃষ্টি দেওয়া দরকার। মানুষের পাশাপাশি পশুপাখির প্রতিও সদয় হওয়া উচিত। তাই এই অভুক্ত পশুপাখিগুলোরও এই দুঃসময়ে আমাদের কাছে খাদ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কারণ ওরাও স্রষ্টারই সৃষ্টি।
n লেখক :সাংবাদিক
