ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে

আপডেট : ১২ জুন ২০২০, ২১:৫৭

পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় সেচের পানির ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ শ্যালো টিউবওয়েলে সেচের পানি ওঠে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণেই এ অবস্থা। আমাদের দেশে পানি চাহিদার বড়ো অংশই পূরণ হয় ভূগর্ভের পানি দিয়ে। অথচ সুপেয় পানির বড়ো উত্স হলো বৃষ্টির পানি। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কোনো বড়ো আয়োজন নেই। ভূগর্ভে সঞ্চিত পানি ব্যবহারের ফলে তা ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অপরিকল্পিতভাবে পানি উত্তোলনের ফলে বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ কোটি মানুষ। ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়— খুলনা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরসহ ১৬ জেলায় সুপেয় পানি নেই। খাবার পানি জোগাড় করতেই অনেক সময় ব্যয় হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন সূত্রে দেখা যায়, দেশে ডিজেল চালিত ১৭ লাখ শ্যালো টিউবওয়েল মাটির নিচ থেকে পানি তুলছে। এগুলো ২০ থেকে ২৪ ফুট মাটির নিচ থেকেও পানি তুলতে পারে। অনেক এলাকায় ৩০ ফুট নিচেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশে পানি নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া, বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়া, নদী শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় সেচের পানি নিচে নেমে যাচ্ছে। সেচের পাশাপাশি সুপেয় পানিও কমতে শুরু করেছে।

বিশ্বে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে ৭৬ কোটিরও বেশি মানুষ। আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ ৯৩০ কোটি মানুষের মধ্যে ৭০০ কোটি মানুষ সুপেয় পানির সংকটে পড়বে। এখনই বিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ পানি পায় না অথবা তাদের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছায় না। সুপেয় পানির সুযোগ বঞ্চিত জনসংখ্যার দিক থেকে আমাদের দেশের অবস্থান সপ্তম। এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশের ৪৪ শতাংশ মানুষ খাওয়ার জন্য নিরাপদ পানি পায় না। আমাদের দেশের প্রায় ১৩০০ নদীর মধ্যে শুকিয়ে যাওয়া ২১২টি নদীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আর্সেনিক ঝুঁকিতে ভুগছে কয়েক কোটি মানুষ। পানযোগ্য সুপেয় পানির চাহিদা ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। যেমন মিঠা পানির উত্স সৃষ্টি করা, জেলা উপজেলা পর্যায়ে সুপেয় পানির প্ল্যান্ট স্থাপন, দেশের সর্বত্র বৃষ্টির পানির সংরক্ষণের ব্যবস্থা, শহরের মতো গ্রামের মানুষের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা, খাল বিল ও জলাভূমিগুলো রক্ষা, পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। ভূগর্ভস্থ পানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমিয়ে জোর দিতে হবে পানির প্রাকৃতিক উত্স বিশেষ করে বৃষ্টির ওপর। এতে একদিকে যেমন নিরাপদ পানযোগ্য পানি পাওয়া যাবে, অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।

পাবনা