রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে কঠোরভাবেই পালিত হচ্ছে লকডাউন। তবে মানুষের বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। নিজের চেষ্টায় কেউ বের হতে না পারলে ‘বড়ো ভাই’ বা প্রশাসনের কাউকে দিয়ে তদবির করছেন। কেউ সফল হচ্ছেন, কেউ পারছেন না। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বাইরে বের হওয়া মানুষের চাপ কম ছিল। তার পরও সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৮৫ জন বাইরে বের হয়েছেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘অধিকাংশ মানুষ আইন মানতে চায়। কিন্তু ২ শতাংশ মানুষকে কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছে না। তারা নানা অসিলায় বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। সবকিছু ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পরও কেউ কেউ বলছে, বাইরে মুক্ত বাতাসে ঘুরতে যাব। তাকে কী বলব?’
গতকাল দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া কাউকে বের হতে বা ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথম দুই দিন আইডি কার্ড দেখিয়ে বের হওয়া গেলেও গতকাল তৃতীয় দিনে রেজিস্টার খাতা চালু হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে আইবিএ হোস্টেল সংলগ্ন প্রবেশপথে নাম ও পেশা এন্ট্রি করে বের হতে হচ্ছে এসব পেশার মানুষকে। বের হওয়া ও প্রবেশের সময় উল্লেখ করতে হচ্ছে তাদের। স্বেচ্ছাসেবীরা এই দায়িত্ব পালন করছেন।
গতকাল দুপুরে দেখা যায়, আইবিএ হোস্টেল সংলগ্ন প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবী ও পুলিশ সদস্যরা বসে আছেন। কেউ ঢুকতে বা বেরোতে চাইলে তার পরিচয় জানতে চাইছেন তারা। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের চেয়ে গতকাল সবজির ভ্যান দ্বিগুণ ঢোকানো হয়েছে ভেতরে। মাছ-মাংসের গাড়িও ঢোকানো হয়েছে। অনেক সময় গলির শেষ মাথায় ভ্যান যেতে যেতে সবজি আগেই বেছে বেছে বিক্রি হয়ে যায়। অবশিষ্ট যা থাকে তার মান ভালো নয় বলে প্রশ্ন তোলেন বাসিন্দারা। পূর্ব রাজাবাজারের একাধিক বাসিন্দা টেলিফোনে বলেন, গলির শেষ মাথায় যখন ভ্যানে সবজি আসে, তখন আর ভালো সবজি থাকে না। আগেই ভালোগুলো বিক্রি হয়ে যায়। গলির শেষ মাথার জন্য সরাসরি সবজির ভ্যান দেওয়ার দাবি করেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গতকাল জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে না আসার জন্য মাইকিং করা হয় দুপুর ১২টার পর থেকেই। বাসায় নামাজ আদায় করতে অনুরোধ করা হয়।
এদিকে মহল্লায় করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। করোনা রোগী শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার জন্য বুথ স্থাপন করা হয়েছে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে। ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার ডা. ফারহানা রহমান বলেন, পূর্ব রাজাবাজারে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য ব্র্যাকের পক্ষ থেকে একটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এই এলাকার বাসিন্দারা আগে মোবাইল ফোনে নমুনা দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিচ্ছেন। তারপর নির্ধারিত সময়ে তারা এসে নমুনা দিচ্ছেন। মূলত জনসমাগম এড়াতেই এভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী বলেন, পূর্ব রাজাবাজারের ভেতরে ও বাইরে পুলিশের টহল টিম কাজ করছে। অনেকেই নানা অজুহাতে বের হওয়ার চেষ্টা করছে।
