দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ছেলের ঘরেই দগ্ধ হলেন সাংবাদিক বাবা

আপডেট : ১২ জুন ২০২০, ২২:৫৬

যে ঘরে চোখের সামনে দগ্ধ হয়ে সন্তানের মৃত্যু দেখেছেন, সেই ঘরেই বাবা দগ্ধ হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। পাঁচ মাস আগে সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন নাননুর ছেলে স্বপ্নীল আহমেদ পিয়াস দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সেই ঘরে ঘটে গেল এমনই ঘটনা। সাংবাদিক নাননু আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় প্লাস্টিক অ্যান্ড বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিত্সাধীন। চিকিত্সকরা বলছেন, তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাকে রাখা হয়েছে।

দৈনিক যুগান্তরের অপরাধ বিভাগের প্রধান মোয়াজ্জেম হোসেন নাননু আফতাবনগরে জহিরুল ইসলাম সিটির ৩ নম্বর রোডের বি ব্লকের ৪৪/৪৬ নম্বর পিস তাজমহল অ্যাপার্টমেন্টের ১০ তলার বাসিন্দা।

নাননুর স্ত্রী পল্লবী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৪টার দিকে নাননু তার ছেলের ঘরের দরজা খোলে। আমি তখন বেডরুমে ছিলাম। হঠাত্ প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ। কক্ষের সামনে গিয়ে দেখি, হালকা আলোতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। নাননু চিত্কার করতে করতে বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে শরীরে পানি লাগাচ্ছে। ঘরের চারদিকে এখানে ওখানে আগুন জ্বলছিল। নাননু বাথরুম থেকে পানি এনে চেষ্টা করে আগুন নিভিয়ে ফেলে। এরই মধ্যে বাড়ির অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা চলে আসেন। তাকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

শেখ হাসিনা জাতীয় প্লাস্টিক অ্যান্ড বার্ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। আমরা চেষ্টা করছি তাকে সর্বোচ্চ চিকিত্সাসেবা দেওয়ার। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করা যাবে।

 মোয়াজ্জেম হোসেন নাননু বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ক্র্যাব সভাপতি আবুল খায়ের ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু তার সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। ক্র্যাবের পক্ষ থেকে তার চিকিত্সার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ক্র্যাব এক বিবৃতি দিয়ে সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন নাননুর বসবাস করা ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজের ত্রুটির বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে। ক্র্যাবের সভাপতি আবুল খায়ের দাবি করেছেন, ঐ বাড়ির বিভিন্ন ফ্ল্যাট থেকে গ্যাসের লিকেজ থেকে গ্যাস বের হওয়ার অভিযোগ শুনেছি। অভিযোগ তদন্ত করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহায়তা চেয়েছেন। দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, এটা একটা মর্মান্তিক ঘটনা। পিতার সামনে সন্তান দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। সেই ঘরে পিতা আবার দগ্ধ হয়েছে। আমরা শুনেছি, ঐ বাড়ির গ্যাস লাইনে ত্রুটি ছিল। এটা তদন্ত করা হোক। নির্মাণকাজে গাফিলতি থাকলে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।