শোকে মুহ্যমান সিরাজগঞ্জ

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ১৯:৫৮

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় নেতা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন শহীদ এম মনসুর আলীর সন্তান ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোক বিরাজ করছে। 

শনিবার নাসিমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। কানায় কানায় পূর্ণ হতে থাকে কার্যালয়সহ পুরো এলাকা। উচ্চ কণ্ঠে ভেসে আসে কান্না ও নেতা কর্মীদের আহাজারী।

শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. দানিউল হক মোল্লা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা সিরাজগঞ্জবাসী তথা উত্তরবঙ্গবাসী আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে হারালাম। তিনি আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক ছিলেন না তিনি ছিলেন দেশের রত্ন। তিনি চলে যাওয়ায় আমরা মেরুদন্ডহীন হয়ে পড়লাম।

মরহুম নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সকল ইউনিট কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী কোরানখানি ও দোয়া মাহফিল, জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করণ ও কালোব্যাজ ধারনের  নির্দেশনা জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। 

আরও পড়ুন: মায়ের সামনেই শিশুদের নির্যাতন, নাড়িয়ে দিলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তিকামনাসহ শোক সন্তপ্ত পরিবারের পতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সহ সভাপতি ইসহাক আলী, অ্যাড. বিমল কুমার দাশ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক মোল্লা , কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক  ড. জান্নাত আরা হেনরী , বেলকুচির লুৎফর রহমান মাখন, ছাত্রলীগসহ অন্য অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তাছাড়াও মুঠো ফোনে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনাও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেধনা জ্ঞাপন করেছেন, অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি , ডা. আব্দুল আজিজ এমপি, হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি, তানভীর ইমাম জয় এমপি, ও আব্দুল মমিন মন্ডল এমপি ।

মোহাম্মদ নাসিম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কুড়িপাড়া  গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং মা আমেনা মনসুর। তিনি ৩ সন্তানের জনক ।

মোহাম্মদ নাসিম ১৯৮৬ প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোহাম্মদ নাসিম। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজপথের পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও তিনি উচ্চ কণ্ঠ ছিলেন। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি দলের সভাপতিমন্ডলির সদস্যের দায়িত্ব পান এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর ওই সরকারে মোহাম্মদ নাসিম স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৪ দলকে বর্তমানে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে তার বড় ভূমিকা রয়েছে। 

ইত্তেফাক/এসি