তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাজেট প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ২০:৩১

ডিজিটাল মহাসড়কের

প্রধান বাহন ব্রডব্যান্ড

—মোস্তাফা জব্বার

 

ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বললে বুঝতে হবে এর মহাসড়ক কি। এই মহাসড়কের মধ্যে সবচেয়ে আগে রয়েছে ব্রডব্যান্ড। ইন্টারনেট আমার মৌলিক অধিকার। আমার দৃষ্টিভঙ্গি রাতারাতি বদলে যাওয়ার নয়। আমার লড়াই ৩৩ বছরের। আমি সবসময়ই ইন্টারনেটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।  ইন্টারনেট মানেই ব্রডব্যান্ড। এটা আমার কথা না। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের কথা।  এখন দেশে ৭৭৭ ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বাকি আছে। তবে আগামী বছরে কোনো ইউনিয়ন বাদ থাকবে না। অবকাঠামো তৈরির দায়িত্ব আমি কন্টিনিউ করছি। আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

 

আব্দুল্লাহ এইচ কাফি

সাবেক চেয়ারম্যান, অ্যাসোসিও

 

বরাবরের মতো এবারও বাজেট পাস হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারী পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে ধীরে চলছে অর্থনীতির চাকা। বর্তমান বাজেট সরকারের সহসী একটি পদক্ষেপ। বাজেটের মাধ্যমে সরকারের উচিত দেশের প্রাইভেট সেক্টরকে বাঁচানো। দেশের একটি কোম্পানিও যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে বেকারের সংখ্যা বেড়ে যাবে। সরকারের এমন কোনো বাজেট দেওয়া উচিত নয় যাতে প্রাইভেট সেক্টর ক্ষতির মুখে পড়ে। বিদেশের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা কাজ করেন তারা সবাই একটি দেশের নয়। আমাদের স্থানীয় প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা কাজ করছে তারা সবাই বাংলাদেশি। সুতরাং, দেশের প্রাইভেট সেক্টর নিয়ে এখনই ভাবতে হবে তা না হলে বেকারত্ব যেমন বাড়বে ঠিক তেমনি বাড়বে ছোট বড় অপরাধ।  তথ্যপ্রযুক্তিতে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপের প্রয়োজন। সামনে এমন সময় আসছে, যারা তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ না তাদের চাকরি সংকট হবে। লো-স্কিলড পিপলদের স্কিলড মডিফাই করার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

 

সৈয়দ আলমাস কবীর

সভাপতি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)

 

দূর্যোগ চলাকালীন অবস্থায় এত বড় একটি বাজেট ঘোষণা করার জন্য বেসিস এর পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ। আমরা টেকনোলজি অ্যানাবেলড হতে পারলে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করতে পারলে যেকোনো দূর্যোগ ভালোভাবে মোবাবিলা করতে পারবো সেটি সরকার বুঝতে পেরেছে, সেজন্য সরকারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আরেকটি বিষয় খুব বেশি আশা করেছিলাম, তা হলো-আমাদের প্রস্তাবনায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের কথা বলেছিলাম। এই তহবিল থেকে আইসিটি কোম্পানিগুলোকে সরল সুদে, বিনা জমানতে এক বছরের গ্রেজ এক্সপ্রেরিয়েন্সসহ লোন দেওয়া হবে। গতানুগতিক ব্যাংকিং যে প্রথা রয়েছে তাতে আইসিটি কোম্পানিগুলো লোন পায় না, আমাদের মেধা সম্পদের যে মূল্য তা ব্যাংকগুলো আয়ত্ব করতে পারে না। এ কারণেই আমরা বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রেখেছিলাম।  আইটি অ্যানাবেল সার্ভিসের মধ্যে ইন্টারনেট সেবাকে যুক্ত করতে বলে ছিলাম। কারণ, ইন্টারনেট হলো এমন এক কাচামাল যা আমাদের সকল সার্ভিসের জন্য প্রয়োজন রয়েছে।  সব মিলিয়ে মহে হয়, এটি একটি তথ্যপ্রযুক্তি বান্ধব বাজেট। বিগত বছরের তুলনায় আইসিটি ডিভিশন ও টেলিকম ডিভিশনে যে পরিমাণ বাজেট বাড়ানো হয়েছে সেই বর্ধিত বাজেট নিয়ে যদি আমরা ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারি তাহলে খুব দ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পারবো এবং বঙ্গবন্ধুর যে সোনার বাংলার স্বপ্ন তা বাস্তবায়ন করতে পারবো।

আমিনুল হাকিম

সভাপতি, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)

বহুদিন আগে থেকে আমরা দাবি করে আসছি আইএসপিকে আইটি অ্যানাবেল সার্ভিস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। দেশের ২২টি সার্ভিসকে ইতোমধ্যে আইটি অ্যানাবেল সার্ভিস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এগুলোর মধ্যে ১২টিরও বেশি সার্ভিস আইএসপি সংশ্লিষ্ট। ভ্যাট নিয়েও আমাদের দাবি রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা ১৫% ভ্যাট দিচ্ছি ও ৫% নিচ্ছি। এতে করে র’ ম্যাটারিয়ালসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ফলে  ব্যান্ডউইথের দামও বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি যদি ক্লিয়ার না হয় তাহলে আমাদের আইনের আশ্রয় গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। আর একটি বিষয় হলো- ২০ বছর আগে আমরা ডায়ালআপ মডেম ব্যবহার করতাম, এখন এ কাজের জন্য ফাইবার অপটিক মডেম ব্যবহার করছি। দুই দশক আগে ডায়ালআপ মডেমের উপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমিয়েছিল। ডায়ালআপ মডেমের ব্যবহার এখন আর তেমন হয় না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফাইবার অপটিক মডেমের উপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো সময় উপযোগী দাবি। ব্যান্ডউইথের মূল্য ঠিক রাখতে হলে এ বিষয়গুলো সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

 

শাহিদ-উল-মুনীর

সভাপতি, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)

করোনাকালে সুন্দর একটি বাজেট প্রস্তাবের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ। এবারের বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এজন্য আমরা আনন্দিত। আমাদের একটি দাবি ছিল, কম্পিউটার পণ্যে এডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) ৫% থেকে ২% যেন করে দেওয়া হয়। মাত্র বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, মাসব্যাপী এ বাজেটের উপরের আলোচনা হবে। আমাদের এখনো দাবি রয়েছে এআইটি যেন ৫% থেকে কমিয়ে ২% করা হয়। আশাকরি, আমাদের দাবি গুরুত্বসহকারে দেখবে সরকার। মোবাইল ডাটার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্টারনেটের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সংশ্লিষ্ট অনেক খরচ বেড়ে যাবে গ্রাহক পর্যায়ে। বিশ্বের বহুদেশে ২২ ইঞ্চি মনিটরের উত্পাদন বন্ধের পথে, তারা ২৪ ও ২৬ ইঞ্চি মনিটর তৈরি করছে।  আমাদের দেশে ২২ ইঞ্চি ও এর চেয়ে বড় কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বেশি ভ্যাট ধার্য রয়েছে। আমাদের দাবি, ২৪ ও ২৬ ইঞ্চি মনিটর কম্পিটার সরঞ্জাম বিবেচনায় এর উপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা হোক। 

 

ওয়াহিদ শরীফ

সভাপতি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)

বরাবরের মতো এবারও জুনমাসেই জাতীয় বাজেট পাস হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবারের বাজেটে আইসিটি ও টেলিকম খাতে বরাদ্দ বেশি রয়েছে। সরকারের কাজে আমাদের অনুরোধ থাকবে, আমাদের যেন কাজের স্পেস করে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে এসেছি। এ তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ৩ বছর মেয়াদি ঋণ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছি। করোনা পরিস্থিতি পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে এ তহবিল গঠন করা খুব জরুরি। এছাড়া, বিপিও খাতে সার্ভিসের উপর ৫% ভ্যাট প্রদান করতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। আমাদের দাবি ছিল, ৫% ভ্যাট মওকুফের। তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের উপর ২৭% ট্যাক্স-ভ্যাট দিতে হয়। যেহেতু দেশের তরুণদের স্কিলড ডেভেলপের কাজে এ ট্রেনিং তাই স্কুল-কলেজের মতো সহনীয় মাত্রায় ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ করলে সকলের জন্য একটি মঙ্গলজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মেইড-ইন বাংলাদেশকে আরো প্রতিষ্ঠার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রিসোর্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে (আরঅ্যান্ডডি) ৩শ’ কোটি টাকার বরাদ্দ হলে এ খাতের অনেক উন্নয়ন হবে। এতে করা দেশের তৈরি প্রযুক্তির আরও সুনাম বৃদ্ধি পাবে।