আইসিএবির বাজেট প্রতিক্রিয়া

সরকারের ব্যাংক ঋণ বাড়লে বেসরকারি খাত বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ২১:২৪

 

রপ্তানির উেস কর কমানোর আহ্বান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণ বাড়ালে বেসরকারি খাত বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করেছে দ্যা ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। গতকাল শনিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টদের ভাবনা শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ ফারুখ। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উেসর ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাংক থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে প্রাইভেট সেক্টর বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিতে কোভিড-১৯-এর প্রভাব প্রশমিত করা এবং বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা প্রয়োজন। বাস্তবায়ন সক্ষমতা সাপেক্ষে ব্যাংক ঋণে নির্ভরতাকে আমরা নেতিবাচক মনে করছি না।

আইসিএবির বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, করমুক্ত আয়েরসীমা বাড়ানোর ফলে এবং ৫ শতাংশ হারে নতুন ধাপ সংযোজনের কারণে প্রান্তিক করদাতাদের করভার কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করা যায়। সর্বোপরি সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে হ্রাসকরণের ফলে উচ্চবিত্ত করদাতাদেরও করভার কমে যাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে রপ্তানির ওপর উেস কর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে যা রপ্তানিমুখী শিল্পসমূহকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তাছাড়া উেস কর কর্তনের হার (১০ শতাংশ-১২ শতাংশ)-এর পরিবর্তে ৮ শতাংশে হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বৈদেশিক ভ্রমণ ব্যয় প্রদর্শিত টার্নওভারের ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হতে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। অপরদিকে ব্যবসায়ের প্রমোশনাল ব্যয় প্রদর্শিত টার্নওভারের শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পরিমাণ অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে, ব্যবসায়ের পরিচালন ব্যয় সার্বিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফলে, করপোরেট কর হ্রাস করার সুফল কোম্পানিগুলো ভোগ করতে পারবে না। আপিলাত ট্রাইব্যুনাল ও আপিল কমিশনারেটে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে দাবিকৃত করের ১০ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ পরিমাণ অর্থ জামানতের প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের একটি বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।