বিকেন্দ্রীকরণের পথে কোয়াব

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ২১:২৮

জান-ই-আলম

কদাচিত্ জেগে উঠা, বছর জুড়ে ঘুমিয়ে থাকা—কোয়াবের সঙ্গে (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বেশ সমার্থক ছিল বাক্য দুটি। অতীতে বেশির ভাগ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলেও গত অক্টোবরে ক্রিকেটারদের বিদ্রোহে বড়ো ধাক্কা খেয়েছিল কোয়াবের বর্তমান নেতৃত্ব। কার্যত ঐ ঘটনার পর থেকেই এখন পর্যন্ত বেশ সরব কোয়াব।

যেমনটা করোনাকালে দুর্গতদের জন্য তহবিল গঠন করেছিল কোয়াব। ক্রিকেটাঙ্গনের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সহযোগিতা করেছে সংগঠনটি। ধীরে ধীরে যেন গতি পাচ্ছে কোয়াবের কার্যক্রম। দেশের সংগঠনটির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট খবর অবশ্য পাওয়া যায়নি।

তবে কোয়াব বিকেন্দ্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বর্তমান নেতৃত্ব। দেশের ৬৪ জেলায় কমিটি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিভাগেও কোয়াবের কমিটি হবে। জেলা-বিভাগের প্রতিনিধিরা জাতীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় কমিটি গঠন করা হয়ে গেছে।

তৃণমূলে না গেলে তথা বিকেন্দ্রীকরণ না করলে সংগঠনের প্রকৃত সুফল ক্রিকেটাররা পাবেন না বলেই বিশ্বাস করে কোয়াবের বর্তমান কমিটি।

করোনায় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির পরই নির্বাচন আয়োজনের চিন্তা করেছিল কোয়াব। এখন সংগঠনকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার দিকেই দৃষ্টি তাদের। প্রিমিয়ার লিগ শুরু হলে আবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল গতকাল বলেছেন, ‘প্রথম ধাপ হচ্ছে কোয়াবকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তারপর নির্বাচন। বিকেন্দ্রীকরণের পর প্রথম কাজই হবে নির্বাচন। প্রতিটি জেলার ভোটাধিকার থাকবে। সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের ভোট থাকবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার, প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগের ক্রিকেটাররা থাকবে। জেলার প্রতিনিধিরা যোগ দিবে। নির্দিষ্ট জেলায় ক্রিকেটারদের সমস্যাগুলোর দেখভাল করবে জেলা কমিটি।’

দেশের ৬৪ জেলায় কোয়াবের কমিটি হবে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এটা প্রথমে আমরা জেলায় করব। তারপর বিভাগে। এরই মধ্যে খুলনা, যশোর, কক্সবাজার, মাদারীপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর এবং কিশোরগঞ্জে কমিটি হয়ে গেছে। প্রক্রিয়াধীন আছে আরো কয়েকটি জেলা।’

প্রতিটি জেলার কমিটিতে থাকবেন ১৭ সদস্য। সংখ্যাটা ১৯ও হতে পারে। প্রস্তাবনায় রয়েছে সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক পদ থাকবে।

জেলাগুলোতে লিগ শুরু করাই হবে জেলা কমিটির প্রথম কাজ। দেবব্রত পাল বলেন, ‘অনেক জেলা আছে যেখানে ১০ বছর লিগ হয় না। প্রথম কাজ হবে ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষা করে খেলা মাঠে ফেরানো। মাঠে খেলা না থাকলে ক্রিকেটাররা কাজহীন হয়ে পড়ে। আমরা জরিপ করব এবং বিসিবি তাদের সংশ্লিষ্ট জেলার কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলবে, কেন সেখানে লিগ নেই? প্রত্যেক জেলায় লিগ হতে হবে।’