এএফপি ও আল জাজিরা
নতুন করে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কিছু এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। সেখানে ছয় জন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর শনিবার এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বেইজিংয়ের দক্ষিণে ফেংতাই জেলায় নতুন করে করোনা রোগী পাওয়া যাওয়ায়, সেখানে গুচ্ছ সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন করে করোনায় যারা সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগেরই অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে স্থানীয় একটি মাংসের বাজারের যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংক্রমিত ব্যক্তিরা অনেকে গত সপ্তাহে স্থানীয় সিনফাদি মাংসের বাজারে গিয়েছিলেন। নতুন করে যে ছয় জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের তিন জন সিনফাদি মাংসের বাজারের কর্মী, এক জন বাজার ভ্রমণকারী আর বাকি দুই জন সাত কিলোমিটার দূরের চায়না মিট রিসার্চ সেন্টারের কর্মী।
করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর মাংসের বাজারের কাছাকাছি ১১টি আবাসিক এলাকা লকডাউন করা হয়েছে, স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকার লোকজনকে বাড়ি থেকে বের না হতে বলা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের কারণে আগামী ১৫ জুন প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল চালুর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে বেইজিং। এছাড়া সব সিনেমা হল, বার, খেলাধুলার ইভেন্টও বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফেংতাই জেলার মাংসের ঐ বাজার বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি এক জন সংক্রমিত ব্যক্তি নিকটস্থ যে সামুদ্রিক খাবারের বাজারে গিয়েছিল, সেটিও বন্ধ করা হয়েছে। ঐ দুটি বাজারে শত শত পুলিশ কর্মকর্তা ও প্যারামিলিটারি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বেইজিং বাজার পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ শহর জুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি তদন্ত করতে টাটকা ও হিমায়িত মাংস, পোলট্রি ও মাছের বাজার ও ওয়্যারহাউজ পর্যবেক্ষণ শুরু করছে। সিনফাদি বাজারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, সবার দ্রুত করোনা পরীক্ষা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত দুই মাসের মধ্যে বেইজিংয়ে করোনা আক্রান্ত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা। গত বছর উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পরে কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে চীন অভ্যন্তরীণভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। সংক্রমণের হার কমে যাওয়ায় ঐ কঠোর লকডাউন এখন অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে।
