ড. আতিউর রহমান
দারুণ এক সংকটকালে আগামী অর্থবছরের বাজেট দিয়েছেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। পুরো বিশ্বেই চলছে করোনার দাপট। জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে। ব্যবসায়-বাণিজ্য স্থবির। নতুন করে মানুষ আয় হারিয়ে গরিব হয়ে যাচ্ছেন। মানুষ বাঁচানোই দায়। বাংলাদেশ এই বিশ্ব বাস্তবতার বাইরে নয়। এমনই প্রেক্ষাপটে ৫ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব প্রাপ্তির (যা সংশোধিত বাজেটের টার্গেটের চেয়ে ২০,০০০ কোটি টাকা বেশি) প্রত্যাশায় এই বাজেট দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে চলমান করোনাকালে এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা যাবে কি না—সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ নাগাদ প্রকৃত আদায় ছিল ১,৩৭,০০০ কোটি টাকা। এপ্রিল-জুনে আদায় বেশি হয়। এবারে এই সময়টায় পুরো অর্থনীতি ছিল এক পায়ে দাঁড়িয়ে। তাই এনবিআর শত চেষ্টা করে মোট আদায় ২,৪০,০০০ কোটি টাকা থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি করতে পারবে বলে মনে হয় না। যদি ধরেও নেই আড়াই লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে, তবুও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে তা প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার কম হবে। তাই রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নয়া বাজেটে রাখা হয়েছে প্রকৃত আদায় থেকে তা পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি। নিঃসন্দেহে এটি সাহসী উদ্যোগ; কিন্তু বাস্তবানুগ নয়। আর সেই কারণেই হয়তো নতুন বাজেটের ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রাও এতটা বড়ো রাখা হয়েছে। অবশ্যি বাজেট ঘাটতিও বেশ খানিকটা বাড়িয়ে এই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি আর একটু বাড়ালেও ক্ষতি ছিল না। কেননা, এই সময়টায় অর্থনীতি ঝিমিয়ে আছে। পণ্য বিকিকিনি কম। তেলের দাম তলানিতে। আমদানি পণ্যের পরিবহন খরচ কম। তাই মূল্যস্ফীতির ভয়ও কম। এমন পরিস্থিতিতে কোন ধারণায় আগামী বছরের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছে। এ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা যথার্থ প্রশ্নই তুলেছেন। চলতি অর্থ বছরের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে কেউ তেমন প্রশ্ন করছেন না। কেননা, এই অর্থবছরের প্রথম আট মাস অর্থনীতি সচলই ছিল। শেষ চার মাসে চুপসে গেলেও গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এমনটিই হবার কথা। চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি বিশ্ব ব্যাংকের ২ শতাংশেরও কম প্রক্ষেপণের সঙ্গে আমি মোটেও একমত হতে পারছি না। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির গতিময়তার ওপর ভর করেই যে অর্থনীতির এই সচলতা বজায় ছিল তা বললে ভুল হবে না। কবে টিকা মিলবে, কবে বিশ্ব বাণিজ্য আগের মতো চালু হবে, হলেও দ্রুত সব অনিশ্চয়তা কেটে যাবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত, তাই জোর দিয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যসংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, সারা দেশে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, প্রবাস থেকে কর্মীদের ফিরে আসার হুমকি দেখা দিচ্ছে, রপ্তানি শিল্পের আয় পড়ে যাচ্ছে—এমন বাস্তবতায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী নিশ্চয় বলতে পারতেন যে, বিশ্বব্যাংক যা বলছে তার চেয়ে ঢের ভালো হবে আমাদের প্রবৃদ্ধি। তবে অঙ্কটা কত হবে তা সুনির্দিষ্ট করে না বললেও চলত। এটা রেঞ্জের মধ্যে রেখে দিলেও চলত। তিন থেকে পাঁচের মধ্যে রেখে দিলেও কোভিডের পরিপ্রেক্ষিতে তা হতো বিরাট সাফল্য। আর আখেরে এর বেশি হলে তিনি সেজন্য বিচক্ষণতার পুরো কৃতিত্বই নিতে পারতেন। একই সঙ্গে অযথা এই প্রবৃদ্ধি বিতর্কের মধ্যে পড়তে হতো না। বাজেট কিন্তু শেষ পর্যন্ত অঙ্কের মারপ্যাঁচ নয়। বাজেট সরকারের নীতি-কৌশল, উপলদ্ধি, স্বপ্ন ও মনস্তত্ত্বেরও দলিল। এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের দলিল। সেই বিচারে কিন্তু এবারের বাজেট যথেষ্ট সতর্ক থেকে যথার্থ বরাদ্দের চেষ্টা করেছে। স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের ৫ দশমিক ১ শতাংশ বা ২৯,২৪৬ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেটের ৫,৫৫৪ কেটি টাকা বেশি) বরাদ্দ দিয়ে সরকারের সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটেছে। তাছাড়া ১০ হাজার কোটি টাকার করোনা তহবিল থেকেও স্বাস্থ্য খাত সমর্থন পাবে বলে আমার বিশ্বাস। সামাজিক সুরক্ষাও এ থেকে সমর্থন পাবে। আগের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। কৃষি খাতেও বরাদ্দ বেশ বেড়েছে। আগের ৪ শতাংশের কম থেকে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে কৃষি। সামাজিক সুরক্ষাতেও বরাদ্দ ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। করোনা-উত্তর বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। সেজন্যই এই খাতে বরাদ্দ ১১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বরাদ্দ বেড়েছে। নতুন বাস্তবতায় প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন নতুন জনশক্তি তৈরি এবং পুরোনোদের দক্ষতা প্রদান করে নয়া অর্থনীতি পরিচালনার জন্যই তা করা হয়েছে। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১১ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দ দেখে হয়তো কেউ কেউ অবাক হয়েছেন। আমার মনে হয় এই খাতের মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করে করোনা-উত্তর অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য যে কানেকটিভিটি ও সাপ্লাই চেইন পুনর্নির্মাণের দরকার হবে সে কথা ভেবেই তা করা হয়েছে। বরাদ্দ যে অগ্রাধিকার পাবার মতো খাতেই দেওয়া হয়েছে সে কথা আর নতুন করে বলার দরকার নেই; কিন্তু এই বরাদ্দ ঠিকঠাক মতো যারা আজ সবচেয়ে বিপাকে পড়ে আছে তাদের জন্য স্বচ্ছভাবে খরচ করা হবে কি না—সেটিই সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাই প্রান্তজনের চোখে বরাদ্দের চেয়ে দুর্নীতিমুক্ত গুণমানের বাজেট বাস্তবায়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর ভালোভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে জাতীয় এবং স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শাক্তিশালী ও সমন্বিত করার প্রয়োজন রয়েছে। ভারতের কেরালা রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় যে চোখ ধাঁধানো সাফল্য দেখতে পারছে তার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর শক্ত অবস্থানই দায়ী। এ রাজ্যের শিক্ষার হার শতভাগ। স্বাস্থ্য বাজেট বিরাট অঙ্কের। একেবারে তৃণমূলের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোও জটিল রোগের চিকিত্সা দিতে পারে। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী ব্যক্তি খাতের হাসপাতালের সংখ্যাও বেশ। মানুষের সচেতনতা ও সংঘবদ্ধ আচরণ বাড়তি সামাজিক পুঁজি। রাজ্য সরকার, স্থানীয় সরকার, এনজিও ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানগুলো হাতে হাত রেখে কাজ করে। ব্যক্তি খাতের অবস্থানও সামাজিক দায়বদ্ধতা যথেষ্ট। কেন্দ্রীয় সরকারও সর্বদাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। এই অভিজ্ঞতার আলোকেই কোভিড মোকাবিলার জন্য আমাদের একটি সুসমন্বিত স্বাস্থ্যনীতিকৌশল এবং তা বাস্তবায়নে জনগণের সার্বিক অংশগ্রহণ সমৃদ্ধ শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এই কৌশলের অধীনেই আমাদের কমিউনিটি হাসপাতাল, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল এবং বিভাগীয় পর্যায়ের মেডিক্যাল কলেজ, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, নানা ইনস্টিউটসহ একটি সুসমন্বিত জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে চলমান মহামারি। সংকটকে সুযোগে পরিণত করার এই সময়টার সদ্ব্যবহার আমাদের করতেই হবে। এখানেই অভিজ্ঞ পেশাদারি পরামর্শকদের ব্যবহার করে বাজেট বরাদ্দকে আরো জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী ঢেলে সাজানোর সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের খোল নলচে বদলে ফেলার এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না। এখন থেকেই এ খাতের সক্ষমতা বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে। সরকারি স্বাস্থসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বিত করে ব্যক্তি ও এনজিও খাতের স্বাস্থ্যসেবা প্রাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করেই আমরা এ খাতের জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে পারি। স্বাস্থ্য খাত ছাড়াও কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের যুগোপযোগী উন্নয়নের জন্য বাজেট প্রস্তাবনাগুলোকে আরো দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায় কি করে সে বিষয়ে জনভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। বাজেট চলাকালে অনেক সৃজনশীল প্রস্তাব বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি গণমাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে থাকেন। অর্থ মন্ত্রণালয় নিশ্চয় এসব আলাপ-আলোচনা খেয়াল করছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন খুব সহজেই এসব প্রস্তাব এক জায়গায় করে নীতিনির্ধারকদের বিবেচনার জন্য সুবিন্যস্ত করা সম্ভব। এ প্রেক্ষাপটেই চলতি বাজেট পর্যালোচনাকে জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখছি:
এক. আগে মানুষ বাঁচাতে হবে। বাজেটে দেওয়া স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরো বাড়িয়ে সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এরই অংশ হিসেবে একটি জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিকৌশল গ্রহণ করা দরকার। দুই. সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার খোল নলচে বদলে ফেলে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে স্বাস্থ্যখরচের পরিমাণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। তিন. নগরের দরিদ্রজনদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য স্থানীয় সরকার কাঠামোর উন্নয়ন ও নয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। চার. কোভিড মোকাবিলায় ‘টেস্টিং’ কার্যক্রম আরো বেগবান ও উদ্ভাবনের সুযোগ রয়েছে (কালিহাতি উপজেলার ভ্রাম্যমাণ টেস্টিং পরিবহন ও স্যাম্পল কালেকশনের উদাহরণ লক্ষ্য করুন)। পাঁচ. সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সুসমন্বিত করার জন্য দ্রুত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা। চালু কর্মসূচির সুবিধা ভোগীদের সঙ্গে নতুন করে নগদ সহায়তা লাভকারী ব্যক্তিদের নাম যুক্ত করে একটা ডিজিটাল তথ্যভান্ডার গড়তে পারলে যে কোনো দুর্যোগেই দ্রুত সহযোগিতা পৌঁছানো সম্ভব হবে। বর্তমান চালু কর্মসূচিতে কারা সুবিধা পাচ্ছে তাদের নাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত তার ওয়েবসাইটে/ ফেইসবুকে প্রকাশ করবে। বিপর্যস্ত মানুষের জন্য নগদ সহায়তা মনে হয় আরো তিন মাস চালু রাখতে হবে। ছয়. মায়ের হাঁসি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি মাকে দেওয়া প্রণোদনা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা। সাত. শিশুদের স্কুল টিফিন স্কুল বন্ধ থাকলেও চালু করা। আট. প্রত্যেক শিশুকে সপ্তাহে অন্তত একটি করে সিদ্ধ ডিম প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া। নয়. শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট এখন অপরিহার্য বলে এই সেবার ওপর পাঁচ শতাংশ বিশেষ চার্জ তুলে নেওয়া হোক। ব্যবসা-বাণিজ্য, ই-কমার্সেও এই সেবা অপরিহার্য। দশ. বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য (যাদের প্রযোজ্য) শূন্য সুদে ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন, ট্যাবলেট কেনার জন্য সুদে ভর্তুকি দেবার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়কে সেজন্য আলাদা তহবিল দিলে তারাই ব্যাংকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে। এক্ষেত্রে সিএসআর সংগ্রহের চেষ্টও করা যেতে পারে। এগারো. কৃষি খাতে প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন, ডিজিটাল মার্কেটিং সুবিধা এবং আধুনিকায়নের জন্য তহবিল বাড়ানো। বারো. ফসলি কৃষির বাইরের কৃষি উপখাতে (পোলট্রি, মত্স্য এবং পানিসম্পদ) উপকরণ, প্রসেসিং, মার্কেটিং, পরিবহন খাতে বাজেটারি সমর্থন প্রদান। তেরো. খুদে ও মাঝারি খাতকে চাঙ্গা রাখতে প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে উত্সাহী করতে আরো সস্তায় পণ্যার্থায়ন, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করা এবং এমএফআইগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের সুযোগ বৃদ্ধি করা। এজন্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তার মনিটরিং তত্পরতা বাড়াতে হবে। চৌদ্দ. রপ্তানি শিল্পের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা। পনের. বাজেট প্রণয়ন ও মনিটরিং কার্যক্রমে জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ষোল. আয়করের সর্বোচ্চ স্তরে ৩০ শতাংশ হার পুনরায় বহাল করে বাজেটকে সুষম করা দরকার। সতের. কোভিড-উত্তর বাংলাদেশ যেন হয় আরো জলবায়ু-বান্ধব। সে জন্য অর্থনীতিকে করতে হবে আরো সবুজ। রিনিউবেল এনার্জির ব্যবহার বাডাতে রাজস্ব প্রণোদনা দিতে হবে। উপকূলের আবাসন হতে হবে খুদে আশ্রয়কেন্দ্র। জলবায়ু অভিঘাতে বিপর্যস্ত কৃষকের তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে হবে অবিলম্বে। আঠারো. প্রকৃতির অবকাঠামো সুন্দরবন, জলাভূমি, নদ-নদী, ম্যানগ্রোব বন, পানিরস্তর সংরক্ষণ করার জন্য বাড়তি বরাদ্দ দেবার প্রয়োজন রয়েছে।
উনিশ. সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনা এক বছরের জন্য বন্ধ রাখা, বিদেশ ভ্রমণ কমিয়ে ফেলা, ডিজিটাল সম্মেলন ছাড়া সব আয়োজন বন্ধ রাখাসহ অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। অনেক অদরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়ে দিয়েও খরচ কমানো সম্ভব।
সবশেষে, প্রস্তাব করছি যে, এবার সংসদে যেহেতু বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা হবে না তাই গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যে সব কথাবার্তা হচ্ছে সে সবই ভরসা। অর্থ মন্ত্রণালয় এ সব জনবিতর্কের সার-সংক্ষেপ তৈরি করে তা বিবেচনার জন্য সংসদে পেশ করতে পারে। এ সব প্রস্তাব জনপ্রত্যাশা হিসেবে ধরে নিয়ে সংসদ এবারের বাজেট চূড়ান্ত করতে আগ্রহী হতে পারে। এই দুঃসময়ে জনগণের কথা বেশি মূল্য পাবে সেই প্রত্যাশাই করছি।
n লেখক :ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর
