কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
করোনায় ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করছে নারায়ণগঞ্জ। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। লম্বা হচ্ছে লাশের মিছিল। করোনার কারণে আপনজনদের শেষ বিদায়ে দেখতে না পারার দুঃখটাই এখন সবচেয়ে বেশি। নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মারা গেছে ৯৪ জন। লকডাউন ভেঙে বকেয়া বেতন ও খাবারের দাবিতে শ্রমিকদের সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেতন বকেয়া রেখেই অনেক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে বিভিন্ন মালিক পক্ষ। আবার কোনো কোনো কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে শ্রমিক ছাঁটাইয়ে মত্ত। পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে তারা। বাড়িভাড়া না দিতে পারায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হারাবার হুমকি আছে প্রত্যেকের। এমন পরিস্থিতিতে পেটের তাগিদে রাস্তায় বের না হয়ে তাদের আর উপায় নেই।
অনেক জেলায় আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করে মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে কিন্তু নারায়ণগঞ্জে তার উলটো চিত্র। এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু লোক মাঠে থাকলেও আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে মাঠে নেই। এ অবস্থা সামাল দিতে না পারলে নারায়ণগঞ্জ হবে দেশের অন্যতম মৃত্যুপুরী—এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞমহল। অবশ্য সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী বারবার কারফিউর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মানুষকে ঘরে রাখতে কারফিউর বিকল্প নেই বলে অভিমত দিয়েছেন সচেতন মহল। করোনা বিস্তারের কারণে নারায়ণগঞ্জকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইইডিসিআর। লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে পুরো নারায়ণগঞ্জকে। এর পরও তা মানেনি জনসাধারণ। অপরদিকে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় প্রতি দিন শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ। এতে শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। এমন অবস্থায় অতি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়া লোকজনও পড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
এদিকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশনা না মেনে চলার কারণে এ জেলায় ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এরই মধ্যে মৃত ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন। তবে তাদের মধ্যে অনেক পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তারা ঠিকমতো চিকিত্সাসেবা পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে লকডাইনও হয়ে পড়েছে শিথিল। এমন অবস্থায় ঝুঁকি এড়াতে অনতিবিলম্বে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির প্রতিনিধি ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথম নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা, সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাকে লকডাউন করা হয়। এরপর পুরো রূপগঞ্জকে লকডাউন করা হয়। গত ৭ এপ্রিল আইডিসিআরের পক্ষ থেকে পুরো জেলাকে লকডাউন করে। তার পরও জেলাবাসীর মধ্যে কোনো বোধোদয় নেই।
