কঠোর লকডাউন চেয়ে বিএনপির সাত দফা সুপারিশ

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ২৩:০৬

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি হিসেবে দেশে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে, আক্রান্ত প্রায় লাখের কাছে। বেসরকারি বা অন্যান্য সূত্রে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।

গতকাল শনিবার উত্তরার বাসায় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন এবং দেশে ফের কঠোর লকডাউন চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সাত দফা সুপারিশ করেন। সুপারিশগুলো হলো :১. প্রয়োজনে সারাদেশে/এলাকাভিত্তিক কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ২. চিকিত্সক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পর্যাপ্ত মানসম্মত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; ৩. প্রত্যেক জেলায় করোনা শনাক্তকরণ ও চিকিত্সাসেবা দ্রুত সম্প্রসারিত করতে হবে; ৪. অভাবগ্রস্ত পরিবারে রেশন কার্ডের মাধ্যমে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে; ৫. দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি গার্মেন্টসকর্মী ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাদের আর্থিক সুবিধা ও সুচিকিত্সা প্রদান   এবং খাদ্যসহায়তা দিতে হবে; ৬. সরকারি ত্রাণ ও অর্থ বিতরণে সরকারদলীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের লুটপাটের চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিলে সঠিকভাবে তা পালন করা হবে বলে আমরা মনে করি। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও এতে উপকৃত হবে এবং ৭. আক্রান্ত ও মৃতের সঠিক সংখ্যা উপস্থাপন করতে হবে। তথ্য লুকিয়ে মেকি সফলতা দেখানোর প্রবণতা জনগণের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত ৫১ লাখ ৮১ হাজার ৩৬০ পরিবারের মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীরা খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। মানুষ চিকিত্সার সুযোগ পাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভেন্টিলেটর, আইসিইউ বেড ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য হাহাকার চলছে। হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে চিকিত্সা না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগী মারা যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন বিএনপির করোনা পর্যবেক্ষণ সেলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহামুদ টুকু এবং ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।