ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ (৭৪) আর নেই। গতকাল শনিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। তিনি কয়েক দিন ধরে স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গতকাল রাত ১০টার দিকে অসুস্থ অনুভব করলে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিএমএইচ এ চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শেখ মো. আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথক শোক বার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম। এক বিবৃতিতে জেপি’র নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
৭৪ বছর বয়সী শেখ মো. আবদুল্লাহ টেকনোক্র্যাট হিসেবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মতিউর রহমান এবং মা রাবেয়া খাতুন। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি স্থানীয় গওহরডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন হেফজের মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। এর পর একই মাদ্রাসার কওমী ধারায় পড়াশুনা করেন। তিনি সুলতানশাহী কেকানিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং সুলতানশাহী কেকানিয়া হাই স্কুল থেকে ১৯৬১ সালে মেট্রিক পাসের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি খুলনার আযম খান কলেজ থেকে ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৬৬ সালে বিকম (অনার্স) ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এম.কম. এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন।
তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ১৯৭০ এর নির্বাচনে স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িত হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ব্যাপক নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর তিনি গোপালগঞ্জ জেলা শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে শেখ হাসিনার সবকটি সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা ও কার্যক্রমে ভূমিকা পালন করেন।
