শঙ্খ নদীর পাড়ে বাঁশখালী পুকুরিয়া ইউনিয়নের বরুমছড়া গ্রাম। সেখানে গত ১০ বছর ধরে চলছে শত কোটি টাকার অবৈধ বালি ব্যবসা। অন্তত ১০ গ্রুপের সিন্ডিকেট সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে শঙ্খ নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালি ব্যবসা করে আসছে নির্বিচারে। ফলে কয়েক শত ঘরবাড়ি, কয়েক শত একর ধানের জমি, স্কুল, মাদ্রাসা, হাটবাজার, মসজিদ শঙ্খ নদীতে তলিয়ে গেছে। জায়গা জমি হারিয়ে অসংখ্য পরিবার ভূমিহীন হয়ে আশ্রয় নিয়েছে পাহাড়ে। গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে সরকার ঐ এলাকার জন্য ১৭ কোটি টাকায় সিসি ব্লক দিয়ে চলতি বছরের প্রথমার্ধ্বে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। কিন্তু বালিখেকোদের নির্বিচারে বালি উত্তোলনের ফলে নবনির্মিত বেড়িবাঁধের বিস্তীর্ণ এলাকার সিসি ব্লক শঙ্খ নদীতে তলিয়ে গেছে। ফলে আবারও বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে। অথচ এই সিসি ব্লকগুলো বসানো সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।
গ্রামের আবু নবী, রোকেয়া বেগম, সালাম আলী, তৈয়ব আলী বলেন, বালিখেকোদের প্রশাসন ধাওয়া করলে কয়েক দিন চুপ থাকে। পরে আবার বালি তোলে। গ্রামের কেউ প্রতিবাদ করলে অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেখায়। এদের এক জনকে র্যাব-৭ অস্ত্রসহ গ্রেফতার করলেও এক বছরের মধ্যে তিনি ফিরে এসেছেন। অভিযুক্ত এক জন ইউপি সদস্য বলেন, ‘আমি অবৈধ বালি ব্যবসা করে গত বছর দেড় লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছি প্রশাসনের কাছে। এরপর থেকে বালি ব্যবসা করছি না। যারা আমার নাম বলছে তা সত্য নয়।’ বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুর রহমান বলেন,‘ গ্রামবাসীর অভিযোগ পেয়ে আমি গত সপ্তাহে ঐ এলাকায় ১ লাখ টাকা জরিমান করেছি। আমরা এ ব্যাপারে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
