গত এক যুগে ধীরে ধীরে হালকা প্রকৌশল পণ্য উত্পাদনে দেশে অভাবিত জোয়ারের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু করোনা সে পরিস্থিতি পালটে দিয়েছে। বলা যায়, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, সারাদেশে প্রায় ১ হাজার ছোটো, মাঝারি ও বৃহত্ ফাউন্ড্রি শিল্প রয়েছে। প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ এবং সৃজনশীল উদ্যোক্তা সক্রিয়ভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। মূলত ঢাকা, বগুড়া ও যশোর জেলায় ফাউন্ড্রি শিল্প অবস্থিত। যশোরে আধুনিক বৃহত্ আকারে এ শিল্প স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ফাউন্ড্রি শপ বা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপগুলোতে প্রায় ৫০০ ধরনের পণ্য উত্পাদন হয়। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্প ও ওয়ার্কশপ মেশিনারি, অটোমোবাইল, স্পেয়ার পার্টস, কৃষি যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ, লৌহঘটিত ও অলৌহঘটিত কাস্টিং পণ্য, ছাঁচ ও ডাই, নির্মাণ যন্ত্রপাতি, সিমেন্ট মিলের খুচরা যন্ত্রাংশ, জাহাজ ও ফিশিং ট্রলারের খুচরা যন্ত্রাংশ, মুদ্রণ ও প্যাকেজিং যন্ত্রপাতি, মেশিন ও সরঞ্জামের প্রায় সকল বিভাগের জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ, রুটি-বিস্কুট যন্ত্রপাতি, পশুর ফিড যন্ত্রপাতি, ময়দা কল যন্ত্রপাতি, নলকূপ, চা-বাগান ও কারখানার যন্ত্রপাতি, টেক্সটাইল অংশ, পাট যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ প্রভৃতি।
যশোরের রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে ভারতে রপ্তানির জন্য প্রতি মাসে ১০-১২টি পাথর ও ইটভাঙা মেশিনের অর্ডার থাকত। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর এখন দুই-একটি করে যেতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী যশোর লাইট অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং মালিক সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাবু বলেন, তার ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানায় ৬০ জনের পরিবর্তে ২০-২৫ জন এবং ফাউন্ড্রিতে ৭০ জনের পরিবর্তে ৩০ জন কর্মচারী এখন কাজ করছে। শুধু রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ না, যশোরের অন্তত ৩০০ হালকা ও ভারী প্রকৌশল শিল্প প্রতিষ্ঠানের একই অবস্থা।
বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক মোবাইলে ইত্তেফাককে বলেন, ১০-১২ বছরে আমরা যতখানি এগিয়ে ছিলাম, তিন-চার মাসে তার অনেকটা ধূলিসাত্ হয়ে গেল। আমাদের ৯০ ভাগ শিল্প-কারখানা ভাড়া বাড়িতে এবং স্বল্প পুঁজির। ভাড়া, কর্মচারীর বেতন আর নিজেদের চলতে যেয়ে সব পুঁজি শেষ। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কনসালট্যান্ট মাসুম তালুকদার বলেন, দেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির ওপর এই শিল্প নির্ভরশীল। করোনার ধাক্কায় যেহেতু অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে, তাই দেশের স্বার্থে এই শিল্পের উপযোগী বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
