বর্তমানে করোনা ভাইরাসজনিত কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি বিধিমালা ২০১০-এর বিধি ৪৪ অনুসরণে ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
অথচ ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গত ৮ জুন বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (এসএফডিএস)-এর কতিপয় মাঠকর্মী অতি উত্সাহী হয়ে কলারণ গ্রামের ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধে চাপ সৃষ্টি করেন। সেদিন স্থানীয় কলারণ গ্রামের চা বিক্রেতা অশোক কুমার দাসের স্ত্রী অনিতা রানী বাড়ি না থাকায় এবং করোনার কারণে ব্যবস্থা মন্দা থাকায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেন ঋণগ্রহীতার পরিবারের সদস্যরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বোয়ালমারীর জনৈক মাঠকর্মী ঋণগ্রহীতার পরিবারের প্রতি রূঢ় আচরণ ও গালিগালাজ করেন। এ সময় ঋণগ্রহীতা-পক্ষের ভাড়াটিয়া আমার বড়ো ভাই সুদীপ কুমার দাস উভয়পক্ষের বাকবিতণ্ডা মেটাতে গেলে এসএফডিএস-এর মাঠকর্মী তাঁর সঙ্গেও রূঢ় আচরণ করেন ও বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় মাঠকর্মী তাঁর দায়িত্বশীল শাখার ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। তখন ঋণগ্রহীতার আরেক প্রতিবেশী উত্তম কুমার দাস এগিয়ে এলে এসএফডিএস-এর কর্মী পলাশ ও নয়নের সঙ্গে উত্তমের হাতাহাতি হয়। তখন পলাশ ও নয়ন তাঁদের ক্ষমতা অপব্যবহার করে পুলিশ ডেকে আনেন এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতার প্রতিবেশী উত্তম কুমার ও আমার বড়ো ভাই সুদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে ১৮৬, ৩৩২, ৩৫৩, ৩৭৯ এবং ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। এমনভাবে মামলা দায়ের করা হয়, যাতে আসামিরা সহজে জামিন না পায়।
এটা খুব দুঃখজনক যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে করোনার জন্য ক্ষুদ্রঋণ কিস্তি আদায়ে হয়রানি না করতে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে সরকারের মাঠপর্যায়ের কিছু অতি উত্সাহী কর্মীর কারণে সরকারের ভাবমূর্তি জনমানসে ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের নিকট সুবিচার প্রার্থনা করছি, যাতে আর কাউকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলায় নাজেহাল করা না-হয়।
কৃষ্ণ, কলারণ, বোয়ালমারী, ফরিদপুর
