জলাবদ্ধতার কারণে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক!

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ২২:১৮

ঊর্বর ভূমির ফসলি মাঠ টেওসাগাড়ী বিল। এই বিলে বছরে তিনটি ফসল উত্পন্ন হয়। সেই বিলেই যত্রতত্র পুকুর খনন করায় বন্ধ হয়েছে পানি নিষ্কাশনের নালাটি। এখন বিল জুড়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে জমির ফসল। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের টেওসাগাড়ি বিলে ঐ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছেমতো বিলের ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করায় ভরাট হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের নালা। কৃষক হাবিবুর রহমানের অভিযোগ: টেওসাগাড়ী বিলে তার ১০ বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। নালাটি ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এখন জলাবদ্ধতার কারণে পাকা ধান ঘরে তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এলাকার কমপেক্ষ ২০ জন কৃষক জানান, কৃষিজমিতে পুকুর খনন বন্ধ ও নালা সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গত বছর  লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিকার হয়নি। বেড়েছে পুকুর খননের সংখ্যা।

মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টেওসাগাড়ি বিলটি এলাকার কৃষকদের আশীর্বাদস্বরূপ। ইউনিয়নের সাহাপুর থেকে বিলের মাঝদিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের নালা রয়েছে। বিলের পানি ঐ নালা দিয়ে ভাটির গুমানী নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ঐ নালাটি সংস্কার হয় না। সম্প্রতি কৃষিজমিতে পুকুর খনন করায় বিভিন্ন জায়গায় নালাটি ভরাট হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তমাল হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে নালা বন্ধ হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নালা সংস্কারের জন্য সমন্বিত পানি উন্নয়ন করপোরেশন (পানাসী) দপ্তরে কথা বলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।