নারায়ণগঞ্জে করোনা দুর্যোগে মানুষের পাশে দুই কাউন্সিলর

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ২২:২২

নারায়ণগঞ্জে বেড়েই চলেছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণের পরিধি। নিদারুণ কষ্টের মধ্যেই জীবন অতিবাহিত করছে এ জেলার মানুষ। তবে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জবাসীর অন্তরে জায়গা করে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দুই কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এবং শওকত হাসেম শকু। নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের প্রকট শুরুর লগ্ন থেকেই জেলাবাসীকে নানাভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি এ ভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য নানা ধরনের প্রতিরোধমূলক সামগ্রী বিতরণ করেছেন তারা। এমনকি করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোন মুসলমান মারা গেলে আত্মীয়স্বজন মরদেহ রেখে পালিয়ে বেড়ালেও নিজ দায়িত্বে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরদেহ সংগ্রহ করে ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করে দাফন পর্যন্ত করে যাচ্ছেন তারা। হিন্দুদের লাশ সত্কার করার মাধ্যমেও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদ। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে তার নাম আলোচিত। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিন বারের কাউন্সিলর এবং একই সঙ্গে মহানগর যুবদলের সভাপতি। হিন্দুধর্মের ছয়টি লাশের মুখাগ্নি করেছেন তিনি। এছাড়া ৭৫টি লাশের দাফন কাজ সম্পন্ন করেছেন কাউন্সিলর খোরশেদ। স্থানীয়দের কেউ তাকে উপাধি দিয়েছেন ‘করোনাবীর’, কেউ ‘করোনাযোদ্ধা’। স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের ভাষায়, খোরশেদ ‘বীর বাহাদুর’।

কাউন্সিলর খোরশেদ বলেন,‘যখন দেখলাম করোনায় আক্রান্ত হলে স্বজনরা লাশের কাছে যেতে চান না, মানবিক দিক বিবেচনা করে এটা আমার মাথায় এসেছে। আসলে মানুষের বিপদের দিনেই পাশে থাকা জরুরি। এখনই মানুষের সব থেকে বড়ো বিপদ চলছে। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমি এ কাজে এসেছি। আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমি হঠাত্ করে এ কাজ শুরু করিনি। প্রথমে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানো ও বিতরণ করা থেকে এ কাজে যুক্ত হই। এভাবে জড়িয়ে পড়েছি বলেই পরিবার কোনো বাধা দিতে পারেনি। তার পরও পরিবার ভীত, বারবার অনুরোধ করে সতর্ক থাকার জন্য।’ খোরশেদ বলেন, ‘আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানাই মাস্ক পরে, গ্লাভস পরে যে কোনো করোনা রোগীর সেবা করতে পারবেন। কোনো ভয়ের কারণ নেই। দয়া করে আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর মৃত্যুর পর তাদের সম্মান রক্ষা করুন। হিন্দু-মুসলিম কোনো ধর্ম নিয়ে নয়, মানুষের প্রতি মানবতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

অপর নাসিক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপি নেতা শওকত হাসেম শকুও নিজ চেষ্টায় এবং বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে থেকেছেন। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষকে নানাভাবে সচেতন করে যাচ্ছেন শকু। এমনকি খাদ্য ও নগদ অর্থ সহযোগিতার মাধ্যমে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন তিনি।