করোনা মহামারির মধ্যেই শুরু হয়েছে ডেঙ্গুর মৌসুম। এখনই সতর্কতা অবলম্বন না করলে গত বছরের মতো অবস্থা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বাড়ির চারপাশ নিজেদেরই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া দুই সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তার ভাষায়, নিজের সুরক্ষা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। তবে সিটি করপোরেশনও এলাকাভিত্তিক ভাগ করে পরিষ্কার-পরিছন্নতা অভিযানে নামলে ভালো ফল দেবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে ১২৩ প্রজাতির মশার রেকর্ড রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ১৪ প্রজাতির মশা পাওয়া যায়। মশার প্রতিটি প্রজাতির প্রজনন, আচরণ ও রোগ বিস্তার ক্ষমতা ভিন্ন। এদের সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে মশার প্রজাতি ও আচরণভেদে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আলাদা আলাদাভাবে নিতে হবে। মশাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত ৩১১ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে গত বছর। জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই চার মাস ডেঙ্গুর মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার ঘনত্ব বেড়ে যায়।
এদিকে দুই সিটি করপোরেশনও ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা এডিস নিয়ন্ত্রণে আলাদা আলাদা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ১০ দিনব্যাপী (পরিষ্কার-পরিছন্নতা) চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। গত ৬ জুন থেকে গতকাল পর্যন্ত ৯ দিনে ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৮৩৩টি বাড়ি, স্থাপনা ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ১ হাজার ৪৩৩টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৮৩ হাজার ১৫৬টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পায় তারা। যার কারণে ৯ দিনে মোট ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় বিভিন্ন বাড়ি ও স্থাপনার মালিকদের কাছ থেকে। জরিমানা আদায় করা হলেও সতর্ক হচ্ছেন না বেশির ভাগ স্থাপনার মালিক।
অন্যদিকে মশা নিধনের অংশ হিসেবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে করা হচ্ছে ফগিং কার্যক্রম। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা আমাদের আওতাধীন জলাশয়গুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম বছরব্যাপী প্রত্যেক ওয়ার্ডে পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে আমরা মশার প্রজনন ও বিস্তার রোধ করতে পারব।’
