অবিক্রিত লবণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। প্রান্তিক চাষিদের কাছে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ টন লবণ মজুত রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে ধার কর্জ করে চাষিরা লবণ চাষে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা লবণ বিক্রি করেননি। ফলে লবণের বিশাল মজুত জমে গেছে। চাষিরা পড়েছেন আর্থিক সংকটে। এদিকে বাজেটে সোডিয়াম সালফেট লবণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায় চাষি ও মিল মালিকরা সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সোডিয়াম সালফেট আমদানিতে আরো ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছেন। এতে চাষি ও লবণ শিল্প উপকৃত হবে বলে মনে করেন তারা।
বিসিক সূত্র জানায়, পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার লবণ উত্পাদন ভালো হয়েছে। চলতি বছরে ৫৮ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে। উত্পাদন হয়েছে ১৫ লাখ ৭০ হাজার মেট্টিক টন। এবার করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও পরিবহন সংকটে মিল মালিকরা আশানুরূপ পরিমাণ লবণ কেনেননি। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন প্রান্তিক লবণ চাষিরা। তাদের কাছে মজুত রাখার মতো গুদাম নেই। ফলে মাটির নিচে গর্ত করে এসব লবণ মজুত রেখেছেন চাষিরা।
চাষিরা জানান, প্রতি মণ লবণ উত্পাদনে ২৫০ টাকা খরচ হয়েছে। এক কানি (৪০ শতক) জমির খাজনা ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা। দৈনিক ৫০০ টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যায় না। কিন্তু উত্পাদিত লবণ প্রতি মণ ১৬০ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে না। এতে চাষিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মজুত থাকা লবণ কবে বিক্রি করতে পারবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা।
বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম শামীম আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, চাষিদের কাছ থেকে কক্সবাজারের মিল মালিকরা কিছু লবণ কিনলেও চট্টগ্রামসহ অন্য এলাকার মিল মালিকরা লবণ কেনেননি। আমাদের লবণ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এখন থেকে লবণ আমদানিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে প্রান্তিক চাষিরা উপকৃত হন।’
বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে মিল মালিকরা লবণ কেনা শুরু করবে। তিনি বলেন, বর্তমানে সোডিয়াম সালফেট আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিতে হয়। ঘোষিত বাজেটে কাস্টমস ডিউটি আরো ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এর ফলে দেশে লবণ শিল্প উপকৃত হবে। পাশাপাশি সোডিয়াম সালফেট আমদানিতে আরো ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানাচ্ছি।
কক্সবাজার জেলা ও বাঁশখালী উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় লবণ চাষ হয়ে থাকে। বিসিকের তথ্য মতে এবার ৫৭ হাজার একর জমিতে লবণের চাষ হয়েছে। আর এই লবণ চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে প্রশিক্ষিত ২৮ হাজার চাষি। এর বাইরে আরো কয়েক হাজার শ্রমিক এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। চাষিদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর যাবত্ দেশে উত্পাদিত লবণ নিয়ে নানামুখি ষড়যন্ত্র করছে গুটিকয়েক লবণ ব্যবসায়ী। দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি লবণ উত্পাদন হলেও বিভিন্নভাবে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির পাঁয়তারা করে তারা। বাংলাদেশ লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কায়সার ইদ্রিস বলেন, এখন লকডাউন খোলার কারণে লবণ বেচাকেনা শুরু হতে পারে। দেশীয় লবণ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সোডিয়াম সালফেট ও সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি বন্ধ রাখতে হবে।
