কলচার্জ বাড়ানোর কারণ জানতে চায় বিটিআরসি

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ২২:৪২

বাজেট পাশের আগেই মোবাইলের কথা বলা ও ইন্টারনেটে বাড়তি শুল্ক কেন আরোপ করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে মোবাইল অপারেটরদের ইমেইল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসি বলেছে, বাজেটে যে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, তা এরই মধ্যে আরোপ করা শুরু করেছে অপারেটররা। বিষয়টি বিটিআরসির নজরে এসেছে। এটা প্রমাণিত হলে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোবাইল অপারেটররা বলছে, যেদিন বাজেট পেশ হয়েছে, সে দিনই একটা আদেশ (এসআরও) জারি করেছে এনবিআর। সেখানে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। অপারেটররা যদি ঐ দিন রাত থেকেই বাড়তি শুল্ক আরোপ না করতেন তাহলে এই অতিরিক্ত অর্থ অপারেটরদের নিজেদের পকেট থেকেই এনবিআরকে দিতে হতো।

বাজেটে মোবাইলসেবা অর্থাত্ ভয়েস কল, ইন্টারনেট ব্যবহার ও মেসেজ পাঠানোর ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই খাতে মোট কর দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা জবাব চেয়েছি, তারা জবাব দিক। তাদের জবাবে আমরা সন্তুষ্ট হলে কোনো ব্যবস্থা   নেওয়া হবে না। এখানে ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।’

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এস এম ফরহাদ ইত্তেফাককে বলেন, অপারেটররা সরকারের বিধি অনুযায়িই কাজ করেছে। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার দিনই এনবিআর থেকে এসআরও জারি করা হয় যা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থবিলের ৮৮ পাতায় কোন কোন দফা অবিলম্বে কার্যকর হবে, তা উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৮০ নম্বর দফাও আছে। এই দফার অন্তর্ভুক্ত মোবাইলসেবা। এটা নতুন কোনো বিষয় না।

রবির হেড অব কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা পৃথকভাবে কোনো জবাব দিচ্ছি না।’ তবে অপর একটি মোবাইল অপারেটরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, সোমবারই (আজ) এমটব থেকে বিটিআরসিতে ব্যাখ্যা পাঠানো হবে। বিটিআরসির এই চিঠির কারণে মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এখন মনে করছেন, অপারেটররা ইচ্ছে করেই বেশি টাকা নিয়ে নিচ্ছে।  

শনিবার পাঠানো বিটিআরসির চিঠিতে বলা হয়েছে, বাজেটে মোবাইলসেবার ওপর যে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, তা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সব ধরনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সব সেবা ও ট্যারিফ অনুমোদনও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য শুল্ক আরোপ করা হলে সেটা তাত্ক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। কারণ, তা না হলে অপব্যবহার করার সুযোগ থাকে।