রাজধানীর ৪৫ রেড জোন যাচ্ছে লকডাউনে

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ২২:৪৭

দেশে ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলেছে কোভিড-১৯-এ মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ‘রেড জোন’ এলাকাগুলোকে পুরোপুরি লকডাউন কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানীর ৪৫টি রেড জোন এলাকা লকডাউনের আওতায় আসছে। এমন একটি প্রস্তাব সংবলিত সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই কার্যকর শুরু হবে।

গতকাল রবিবার সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার পাশাপাশি ভাইরাস থেকে মানুষকে সুরক্ষার জন্য এলাকাভিত্তিক ‘লকডাউন’ করার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘কোনো কোনো এলাকায় বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, সেখানে লকডাউন করে তা আটকাচ্ছি, যাতে ওখান থেকে সংক্রমিত না হয়।’

এদিকে এবারের লকডাউন কারফিউর মতো করার পরামর্শ দিয়েছেন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, এবারের লকডাউন হবে ভিন্নতর। সাধারণ ছুটির মতো হবে না। রেড জোন এলাকাগুলোতে কারফিউর মতো লকডাউন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এর মেয়াদ দুই থেকে তিন সপ্তাহ হতে হবে। এছাড়া এবারের লকডাউনে কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। অলিগলি বা নির্দিষ্ট বাসাবাড়ির মতো ছোটোখাটো এলাকা নয়, বড়ো এলাকা জুড়েই লকডাউন করতে হবে। আর লকডাউনের ৪৮ ঘণ্টা আগে এলাকাবাসীকে তা জানিয়ে দিতে হবে। লকডাউন চলাকালে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাসা থেকে বের হতে পারবে না।

রেড জোন চিহ্নিত যেসব এলাকা

জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৪৫টি এলাকাকে রেড জোনে চিহ্নিত করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির গত শনিবারের সভায় এসব এলাকা চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৮টি এলাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ১৭টি এলাকা আছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০টি এলাকা রেড জোনের মধ্যে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের বাইরে তিন জেলার মধ্যে গাজীপুরের সব কটি উপজেলাকে রেড জোনের আওতায় আনা হয়েছে।                 নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সদর এবং পুরো সিটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ১৪ দিনে প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৬০ জন রোগীর থাকার ভিত্তিতে এই রেড জোন ঘোষণা করা হচ্ছে। এটা কেবল ঢাকা ও চট্টগ্রামের জন্য প্রযোজ্য। বাকি জেলাগুলোতে ১৪ দিনের মধ্যে ১ লাখ জনসংখ্যায় ১০ জন  রোগী থাকলে সেটাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির  রেড জোনভুক্ত ২৮টি এলাকার মধ্যে আছে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, বাসাবো, শান্তিনগর, পরীবাগ, পল্টন, আজিমপুর, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলী, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড ও সেগুনবাগিচা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যে ১৭ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হয়েছে সেগুলো হলো—মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, উত্তরা, রায়েরবাজার ও বসুন্ধরা।

এছাড়া চট্টগ্রাম সিটির ১০টি এলাকা রেড জোনের মধ্যে রাখা হয়েছে। এগুলো হলো—কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, বন্দরের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ও হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিন ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চলাচল ও গণপরিবহন চালুর নির্দেশনা দেয় সরকার। এখন ১৬ জুন থেকে নতুন নির্দেশনা মানতে হবে।

এদিকে রেড জোনের ঘোষণা আসার আগেই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, সরকার মূলত জোনভিত্তিক লকডাউনের মাধ্যমে করোনা মোকাবিলার কৌশল গ্রহণ করেছে। সেই কৌশলে রেড জোন চিহ্নিত এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে এবং সাধারণ ছুটিও থাকবে সেখানে, যাতে মানুষ বাইরে না যায়, ভেতরে না আসে।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা সংক্রমণ রোধে জোনভিত্তিক লকডাউনের অংশ হিসেবে এলাকা নির্ধারণের কাজ চলছে। লকডাউন কার্যকরে ইতিমধ্যে একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই গাইডলাইনে লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গতকাল রবিবার এই গাইডলাইন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।