রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে অগ্নিদুর্ঘটনা চলাকালে আগুন নেভাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে রোগীদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত কমিটি। ঐ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ চার টন শীতাতপ যন্ত্র থেকে ধোঁয়া দেখামাত্র প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা, ইমারজেন্সি অ্যালার্ম বাজানো, রোগী অপসারণ ও হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ দলকে উপস্থিত হতে জরুরি অনুরোধ করলে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও রোগীদের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হতো। এছাড়া ঐ এসি হতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ নির্গত হতে দেখেও কর্মরত উপস্থিত ব্যক্তিদেরকে (ডাক্তার, তিন জন নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী) আগুন নেভানোর ব্যাপারে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অন্যান্য আগুন নেভানোর সরঞ্জামাদি ব্যবহারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ফলে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের গাফিলতির কারণে ঘটনাটি ঘটে বলে তদন্ত কমিটি মনে করে।
হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন একক ভার্চুয়াল বেঞ্চে গতকাল রবিবার এই প্রতিবেদন দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও রাজউকের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
গত ২৭ মে রাতে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আগুনে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। ঐ ঘটনায় দায়েরকৃত রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তিন সরকারি সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
গতকাল শুনানিতে হাসপাতালের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান আদালতে বলেন, তদন্ত রিপোর্টগুলো দেখে আমরা আমাদের ব্যাখ্যা দাখিল করতে চাই। এরপরই আদালত তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে ২২ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য করে দেয়।
এদিকে হাইকোর্টে দাখিল করা রাজউকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসোলেশন সেন্টার নির্মাণে রাজউকের কোনো ধরনের অনুমোদন তারা নেয়নি। ডিএমপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ড সংঘটন ও তা প্রতিরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল। এছাড়া তিন সরকারি সংস্থাই তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদির বেশির ভাগই ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ ও অকেজো। আদালতে রিটকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ ও অ্যাডভোকেট নিয়াজ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
