রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন

মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের আহ্বান

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০১:০৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এই আহ্বান জানান। ভারতে দায়িত্বরত বিভিন্ন দেশের ৬০ জনের বেশি কূটনীতিকে রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন হাইকমিশনার মোয়াজ্জেম আলী। হাইকমিশন আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী সভায় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত চাপ জরুরি। এ সময় তিনি ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইতোমধ্যে গৃহীত প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চান।

প্রসঙ্গত, গত বছরের আগস্ট মাসে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিত সহিংসতা ও নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। সে সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে মিয়ানমার। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। প্রথম ব্যাচে ৪৮৫টি পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা ফেরত যাবে। প্রতিদিন দেড়শ করে ১৫ দিনে এসব রোহিঙ্গা দেশে ফিরবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চলবে। যদিও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই প্রত্যাবাসনকে অপরিণত এবং বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখতে জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান

আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান মিশেল ব্যাশেলেট। তিনি বলেছেন, এই প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। তারা মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে পড়তে পারে। এই প্রত্যাবাসন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে। জেনেভা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, রোহিঙ্গারা বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায় ফিরতে রাজি নয়। অনেকের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি বলেন, এখনও রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। সোমবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ের পর ৮ পৃষ্ঠার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয় এবং তারা স্বেচ্ছায় ফিরতে না চায় ততক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা স্থগিত করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইসিজি।