ভাতানির্ভর বাজেট দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনরা। বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থানবিষয়ক এক আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন তারা। গতকাল রবিবার অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লার সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সভায় বক্তারা একথা বলেন।
বাজেট প্রতিক্রিয়াটি যৌথভাবে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ইউকেএইড, ডিজএবিলিটি রাইটস ফান্ড এবং পাঁচটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন-ডিসিএফ, এনসিডিডাব্লিউ, সীতাকুণ্ড ফেডারেশন, টার্নিং পয়েন্ট ও ডাব্লিউডিডিএফের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় বাজেট ২০২০-২১-এর ওপর মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আলবার্ট মোল্লা। বাজেটে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৫ হাজার বৃদ্ধি করায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মূলপ্রবন্ধে বলা হয়, বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ মূলত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় রাখা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর খাতের বাজেট মোট বাজেটের ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর খাতের বাজেটের মাত্র ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। মোট বাজেটের মাত্র দশমিক ৩৩ শতাংশ। সুতরাং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার তুলনায় এ বাজেট খুবই অপ্রতুল। ভাতার ওপর অধিকনির্ভরতা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উত্পাদনমুখী উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ বরাদ্দ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখবে না। প্রতিবন্ধী, বিধবা, এতিম (দুস্থ, অসহায়, অনগ্রসর) ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য ৪৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে।
সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু দাবি পুনর্বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেন। যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হলে সঠিক পরিসংখ্যানের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা, সব অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবারের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার আওতায় আগামী ৯ থেকে ১২ মাসের খাদ্য রেশনের ব্যবস্থা করা, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল অনুযায়ী অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা জনপ্রতি মাসিক ন্যূনতম ১ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা, বেকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাজেট বরাদ্দ রাখা, সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য বিশেষ বিমা কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করা ইত্যাদি। আলোচনায় আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
