ফল

বর্ষার ফল করমচা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২০, ২১:৪১

 

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

ধান দেব মেপে

লেবুর পাতা করমচা

যা বৃষ্টি  ধরে যা

লেবুর সঙ্গে সকাল সন্ধ্যা পরিচিত হলেও করমচা ফলটি একটু কমই দেখা যায়।

টক স্বাদের ছোটো আকৃতির মুখরোচক ফল। করমচাগাছ এখন শহরেও রোপণ করা হচ্ছে। কারো কারো বাড়ির ছাদ কিংবা বারান্দায়ও দেখা মেলে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এ গাছ লাগিয়ে থাকেন অনেকে।

করমচাগাছ বেশ ঝোপালো ধরনের শক্ত জাতের কাঁটাওয়ালা গুল্ম। সাদা ও ফিকে গোলাপি রঙের সুমিষ্ট গন্ধযুক্ত করমচা ফুল দেখতে কিছুটা কুন্দ ফুলের মতো। ফলের রং কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ, পাকা অবস্থায় লাল। কোনো কোনো জাতের ফলের গায়ে খয়েরি দাগ থাকে। চেরি ফলের মতো দেখতে, বেশ শাঁসালো, ভেতরে থাকে ছোটো ছোটো চার-পাঁচটি বীজ। গাছ ও ফলে দুধের মতো আঠালো রস রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং ফল ধরে এপ্রিল-মে মাসে। বর্ষায় ফল পাকে। অনেক সময় আবার অনিয়মিতভাবে কমবেশি প্রায় সারা বছরই করমচা ফল আসতে দেখা যায়।

করমচাগাছ গরম, আর্দ্র কিংবা শুষ্ক পরিবেশে ভালো জন্মে। বেলে-দোআঁশ বা হালকা মাটিতে জন্মাতে ভালোবাসে। করমচা চাষে জমি উঁচু হলেই ভালো। তবে নিচু জমিতেও চাষ করা চলে, যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে। বর্ষাকালে চারা রোপণ করা ভালো। এতে বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না।

করমচা খুব শক্ত ধরনের গাছ এবং দেহে আঠালো রস থাকায় রোগ ও পোকা সহজে আক্রমণ করতে পারে না। ফল ছিদ্রকারী পোকা ফলের ছোটো অবস্থায় ভেতরে ঢুকে শাঁস খেয়ে ফেলে। এবার আসা যাক করমচার পুষ্টি ও ঔষধি গুণের কথায়। ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ। ফলের ১৮.২ ভাগ জলীয় রস, ২.৩ ভাগ প্রোটিন, ২.৮ ভাগ খনিজ, ৯.৬ ভাগ স্নেহ ও  ৬৭.১ ভাগ শর্করা। খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম ০.১৬ ভাগ, ফসফরাস ০.৬ ভাগ এবং লৌহ ৩৯.১ ভাগ। প্রতি ১০০ গ্রাম করমচা থেকে পাওয়া যায় ৩৬৪ ক্যালরি তাপ এবং ১০০ গ্রাম তাজা ফলে রয়েছে ২০০.৯৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।