আমাদের অঞ্চলে শীতের সময় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার দরকার। তাই বছরের এ সময়টিতে উত্পাদিত হয় কমলা। কমলার সন্ধান মানুষ কবে কোথায় পেয়েছিল তার কোনো সঠিক ইতিহাস নেই। তবে বিজ্ঞানীরা বলেন, কমলার আদি জন্মস্থান সম্ভবত চীন। আজ থেকে চার হাজার বছর আগে চীনে প্রথম কমলার চাষ শুরু হয়। তবে বর্তমানে আমেরিকা, জাপান, ব্রাজিল, স্পেন, ভারত, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, ইতালি, গ্রিস ও মরক্কোসহ প্রভৃতি দেশে চাষ হচ্ছে। ভারতে কমলার চাষ প্রধানত পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, আসাম, ওড়িষ্যা, গুজরাট, ত্রিপুরা, অন্ধপ্রদেশ, মেঘালয় প্রভৃতি প্রদেশে সীমাবদ্ধ। তবে ভারতজুড়ে দার্জিলিং কমলার সমাদর রয়েছে। বাংলাদেশের সিলেট, রংপুর প্রভৃতি জেলায় কমলার চাষ হচ্ছে।
কমলা রুটেসি গোত্রের কাঁটাযুক্ত গাছ। এ গোত্রে ১৪টি বর্ণ থাকলেও কেবল সাইট্রাস, পনসিরাস ও ফরটুনেলা বর্ণের পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির কমলা রয়েছে। আর উল্লেখযোগ্য জাত হলো রক্তিম মালটা, মুসাম্বী গন্ধরাজ, সিট্রন, কর্ণাখাট্টা, ট্রাইফোলিয়েট, সানত্রা, নাগপুর, সানত্রা ট্যাঙ্গেরিনিস, কুর্গ কমলালেবু।
ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ কমলা যথেষ্ট পুষ্টিগুণে ভরপুর। প্রতি ১০০ গ্রাম কমলাতে রয়েছে ০.৯৩ গ্রাম প্রোটিন, ০.৩ গ্রাম ফ্যাট, ১১.০২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৪ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ০.০৫ গ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.০২ গ্রাম ফসফরাস এবং ০.১ গ্রাম লৌহ। এছাড়া প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন ‘এ’ থাকে ৩৫০ আইইউ, বি-১ থাকে ১২০ মিলিগ্রাম ও সি থাকে ৬৮ মিলিগ্রাম এবং প্রতি কেজি কমলায় ৪৯০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। খনিজ পর্দাথের মধ্যে কমলাতে সবচেয়ে বেশি থাকে পটাশিয়াম এবং তারপর বেশি পাওয়া যায় ভিটামিন ‘সি’।
কমলার রস অর্থাত্ ‘অরেঞ্জ জুস’ খেতে ছোট বড়ো কারোরই কোনো বাধা নেই। অনেকেই কমলার রস চুষে বাকি অংশ ফেলে দেয়। অথচ কোয়াসুদ্ধ কমলা খেতে পারলেই বেশি উপকার। কোয়াতে ফাইবার বা আঁশ থাকায় তা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়। কমলার শুষ্ক ছাল অম্লরোগ ও শারীরিক দুর্বলতায় কার্যকর। ফলের রস হিস্টিরিয়া রোগ নিবারক। টাটকা কমলার খোসা মুখে মাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। কমলার ফুল, পাতা, ফলের খোসা থেকে সুগন্ধযুক্ত তেল পাওয়া যায়, যার বাণিজ্যিক মূল্য অনেক।
