নতুন শর্তে বাড়লো চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদানের অর্থ

আপডেট : ১৬ জুন ২০২০, ১৯:৪৪

দেশের চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল অনেক সময়। সিনেমার জন্য যে অর্থ এতদিন বরাদ্দ ছিল সেখান থেকে বাড়ানোর আবেদন ছিল সংশ্লিষ্টদের। তবে সরকারি অনুদান পাওয়া নির্মাতাদের এই অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ কম নয়। অনুদান নেওয়ার কয়েক বছর পার হলেও সেই সিনেমার কোনো খোঁজ থাকে না, সিনেমা হলে মুক্তি নিয়েও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। অনেক সিনেমা মাত্র দু-তিনটি হলে মুক্তি দিয়ে উঠে যায় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার তালিকায়। অথচ সেই সিনেমা মুক্তির খোঁজ অনেক সময় গণমাধ্যমও জানে না। অনেকটা নীরবেই শুটিং হয়ে মুক্তি হয়ে যায় সিনেমাগুলোর। এছাড়া সরকারি অনুদানের সিনেমা নিয়ে প্রচারণারও তাগিদ থাকে না নির্মাতাদের। কোনোরকম নির্মাণ করে হল পর্যন্ত নিয়ে এলেই যেন দায়িত্ব শেষ।

সার্বিক এই বিষয়গুলোর সমাধান দেওয়া হলো ২০২০-২০২১ অর্থবছরে চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের অনুদান ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে ১৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে গত সোমবার এক নীতিমালা প্রকাশ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালায় (সংশোধিত) জানানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রসহ ১০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অনুদান দেওয়া হবে।

অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নূন্যতম ১০টি সিনেমা হলে মুক্তির দেওয়ার নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। দীর্ঘদিন ধরে অনুদানপ্রাপ্ত প্রযোজক ও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিনেমা হলে ছবি মুক্তি না দেওয়ার অভিযোগের মধ্যেই এ শর্ত দেওয়া হলো। এবার একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্রসহ ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটিতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে বলে আরেক নীতিমালায় জানানো হয়েছে। নীতিমালার অন্যান্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে অনুদানের চেক প্রাপ্তির ৯ মাসের মধ্যে চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। চলচ্চিত্রের ভাষা ও বিষয়বস্তু জেন্ডার সংবেদনশীল হতে হবে।