নদীভাঙনে অসহায় হয়ে পড়েছে ভূরুঙ্গামারীর মানুষ। বসতভিটা, বাঁশঝাড়, গাছবাগান ও আবাদি জমি চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। বসতভিটা হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজছে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় জানা যায়, কালজানি নদীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম ঢলডাঙ্গা ঘাটপার, দক্ষিণ ঢলডাঙ্গা চারমাথা এলাকা এবং কালজানি ঘাটপাড় এলাকায় প্রচণ্ড ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে একটি বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, দুটি প্রাইমারি স্কুল, একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসাসহ বহু স্থাপনা। ভাঙনের শিকার অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ মিজানুর রহমান, হাজী আ. রশীদ ও আব্দুল হালিম জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ওগুলোও হয় তো হারিয়ে যাবে নদীগর্ভে। অতি দ্রুতই হয় তো ভেঙে যাবে সামনের ইউনিয়ন সদরের বাজারটিও। অপর দিকে দুধকুমার নদের ভাঙনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলেয়া, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা, পাইকডাঙ্গা, সোনাহাট ব্রিজের পশ্চিমপাড়, বলদিয়া ইউনিয়নের হেলডাঙ্গা ও আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুঠিসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত বিঘা আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত পরিদর্শন শেষে নদী শাসনের জন্য একটি প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করি দ্রুতই একটি সমাধান দৃশ্যমান হবে।
