ডেঙ্গু মোকাবিলা যেন বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো না হয়

আপডেট : ১৬ জুন ২০২০, ২১:২১

করোনা লইয়া এই মুহূর্তে আমাদের মাথাব্যথার শেষ নাই। ইহার সহিত এইবার যুক্ত হইতে পারে ডেঙ্গু জ্বর। ডেঙ্গু ও করোনা যদি একসঙ্গে কাহারো শরীরে আঘাত হানে, তাহা হইলে সমগ্র বিষয়টি আরো জটিল হইয়া উঠিতে পারে। এমনিতেই বাংলাদেশে গত কয়েক বত্সর ধরিয়া বর্ষাকালে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করিয়াছে। আগে ইহা কেবল মহানগরের রোগ ছিল, ইহা এখন মফস্সলেও ছড়াইয়া পড়িয়াছে। যদিও সমস্যাটি ঢাকায় সবচাইতে বেশি প্রকট।

ইতোমধ্যে বর্ষা ঋতুর প্রবেশ ঘটিয়াছে। সঙ্গে দোসর করোনা ভাইরাস। এই অবস্থায় এইবার ডেঙ্গুর ব্যাপারে সবচাইতে বেশি সচেতনতা প্রয়োজন। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সম্প্র্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১০ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা তথা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করিয়াছে। তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা হইল, এই অভিযানে ডিএনসিসি ১ হাজার ৬০১টি স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাইয়াছে! কয়েক দিন ধরিয়া থামিয়া থামিয়া বৃষ্টি হইতেছে। ইহাকে বলা যায় এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী পরিবেশ। গবেষণায় দেখা গিয়াছে, কোনো অঞ্চলে একবার ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটিলে উহা মৌসুমি রোগে পরিণত হইয়া যায়। উহাকে শতভাগ প্রতিহত করা যায় না। পৃথিবীতে প্রতি বত্সর ৩৯ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, ইহাতে ৯ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেয় আর বাকি ৭৫ শতাংশের কোনো উপসর্গই থাকে না। এই উপসর্গহীন মানুষের মাধ্যমে এক স্থান হইতে অন্য স্থানে ডেঙ্গুর হিউম্যান ট্রান্সমিশন হইতেছে। এখন কোনো একটি জায়গায় এডিস মশার পাড়া ডিমে যদি ডেঙ্গু ভাইরাস থাকে, সেই মশা হইতে সংক্রমণ ছড়াইবে এবং ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটিবেই। যাহাদের ক্রনিক অসুখ, যেমন—ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, অ্যানিমিয়া, যক্ষ্মা রহিয়াছে তাহাদের এবং বয়স্ক ও শিশুর ক্ষেত্রে ডেঙ্গু প্রাণঘাতী হইতে পারে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সচেতন করিবার বিষয়টির উপর প্রতি বত্সরই জোর দেওয়া হয়; কিন্তু বিষয়টি যেন হইয়া উঠিয়াছে বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোর মতো। কারণ, সর্বশেষ অভিযানে ডিএনসিসির প্রায় ৬৭ শতাংশ স্থাপনায় এডিসের বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশের সন্ধান পাওয়া গিয়াছে। প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ স্থাপনায় এডিসের লার্ভাও জন্ম লইয়াছে। এডিস মশার লার্ভা পাইবার অপরাধে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এই অভিযানে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হইয়াছে। অভিযান পরিচালনার সময় বিভিন্ন বাসাবাড়িতে প্লাস্টিকের খালি পাত্র, বালতি, ড্রাম, অব্যবহূত টায়ার ও ককশিট, ভাঙা টব, পরিত্যক্ত টিন পাওয়া যায়। সতর্ক করিয়া বলা হইয়াছে, পরবর্তী সময়ে কেহ একই অপরাধে অভিযুক্ত হইলে আরো কঠোর শাস্তি এমনকি জেল পর্যন্ত হইতে পারে। তবে কেবল জরিমানা নহে, ইহার পাশাপাশি প্রকৃত সচেতনতা দরকার। নচেত্ জরিমানা দিয়া কেহ পার পাইলেও ডেঙ্গু হইতে পার পাওয়া যাইবে না।