সুলভ মূল্যে পাওয়া যাবে করোনা ভাইরাসের এমন ভ্যাকসিন তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ। এরই মধ্যে মানবদেহে আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) প্রযুক্তির এই টিকার ট্রায়ালের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে পশুদের শরীরে এই পরীক্ষায় সফলতা পাওয়া গিয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ৩০০ জন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিকে এই টিকার দুইটি করে ডোজ দেওয়া হবে। এতে টিকাটি নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হলে অক্টোবরে আরো ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এটি পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রথম ধাপের ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ৩০০ স্বেচ্ছাসেবীর সবার বয়স ১৮ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, গত দুই মাসে ল্যাবরেটরিতে পশুদের শরীরে এই আরএনএ ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে সাফল্য এসেছে। এবার তারা মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু করেছেন। সরকারি অনুমোদন নিয়েই প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ জনের শরীরে ঐ ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইম্পেরিয়াল কলেজের মিউকোসাল ইনফেকশন ও ইমিউনিটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রবিন শ্যাটন বলেন, ‘সেল্ফ অ্যাম্পলিফাইং’ আরএনএ টেকনোলজির কাজ হলো শরীরের মধ্যেই ভাইরাসের প্রোটিনের অনুরূপ প্রোটিন তৈরি করা, যাতে এর প্রতিরোধে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় খুব দ্রুত রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে।
ইম্পেরিয়াল কলেজের এই গবেষণার উন্নয়নে ৪১ মিলিয়ন পাউন্ডের তহবিল যোগান দিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। এর বাইরে আরো ৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান পেয়েছে এই গবেষণা। প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ছাড়াও বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খুব কম দামে ভ্যাকসিন বাজারে আনা হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ করোনা আক্রান্ত দেশগুলোতে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
