করোনার গ্রাসে ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২০, ২২:০৮

দেশে করোনা শনাক্তের পর থেকেই সরকার লকডাউনসহ নানা রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কর্মহীন হওয়ায় সাধারণ নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের কমে গেছে আয়। ফলে যে শহরে মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় আসেন, সেই শহর এখন ছাড়তে শুরু করেছে নিঃস্ব হওয়ার ভয়ে। অনেকেই ভাড়াবাসা ছেড়ে দিয়ে পরিবারসহ ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামে। এসব কারণে রাজধানীর বাড়ি মালিকরাও পড়েছেন ভাড়াটিয়ার সংকটে।

জানা যায়, এ নগরীর বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই ভাড়াটিয়া। করোনা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে বাসাভাড়ার চিত্রও। ভাড়াটিয়ার অভাবে রাজধানীর বেশির ভাগ বাড়িতেই একাধিক ফ্ল্যাট বা ঘর খালি। যেসব ভাড়াটিয়া এখনো বহাল আছেন, তারাও ভাড়া দিতে না পারার আশঙ্কায় বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিচ্ছেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় রাজধানীর বেশ কয়েক জন ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকের সঙ্গে। তারা জানান, ভাড়াটিয়ারা সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের কারণে অনেকেই তাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। আবার অনেকে মোটা অঙ্কের ভাড়া না দিতে পেরে ছোটো পরিসরের বাসা বা মেসে উঠছেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ভাড়া থাকতেন মো. আবু তোরাব। গত ঈদের মাসেই তার কোম্পানি বলে দিয়েছে কর্মচারীদের বেতন অর্ধেক দেওয়া হবে। তিনি বেতন পেতেন ৬০ হাজার টাকা। এখন পাবেন অর্ধেক। তা দিয়ে চলতে অসুবিধা হবে বিধায় আগের বাসা পরিবর্তন করে উঠেছেন অপেক্ষাকৃত ছোটো পরিসরের বাসায়। একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন আরো কয়েক জন। কেউ কেউ আবার বাসা ছেড়ে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে উঠেছেন মেসে।

একজন সংগীতশিল্পী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে তার গানের কোনো অনুষ্ঠান নেই। টিউশনি ছিল তার আয়ের অন্যতম উত্স। এখন তা বন্ধ। এক রুমের ভাড়াবাসায় বসবাস করলেও তা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে কর্মজীবী মানুষ খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। সামনে কী ঘটবে কেউ আন্দাজ করতে পারছেন না। অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক ভাড়াটিয়া সময় মতো বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না। আমরা প্রথম থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি, নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা হলেও বাড়িভাড়া মওকুফ করার কথা। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনছেন না।’