অনুমোদনের বাধ্যবাধকতায় গ্র্যাচুইটি ফান্ড

আপডেট : ১৬ জুন ২০২০, ২২:৫১

চাকরি শেষে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কর্মীকে পরিশোধ করা এককালীন গ্র্যাচুইটির তহবিল এখন থেকে আয়কর বিভাগের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। অন্যথায় এই অর্থ ব্যয় হিসেবে অনুমোদন করবে না আয়কর বিভাগ। সেক্ষেত্রে এই অর্থের ওপর আয়কর বর্তাবে কর্মীর ওপর। ফলে কর্মজীবন শেষে এককালীন প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি থেকে বড়ো অঙ্কের অর্থ সরকারের ঘরে দিয়ে আসতে হবে। বাজেটের অর্থবিলে এ বিষয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত গ্র্যাচুইটি করমুক্ত। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকায় এই অর্থের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানই গ্র্যাচুইটি হিসেবে বড়ো অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করে। তবে এই টাকা প্রকৃত অর্থেই পেনশন বা গ্র্যাচুইটির না অন্য খাতের টাকা এই প্রক্রিয়ায় দেওয়া হচ্ছে, তা যাচাই করার সুযোগ থাকে না কর কর্তৃপক্ষের।

এনবিআরের আয়কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, গ্র্যাচুইটি হিসেবে ব্যয়ের নামে এ খাতে বড়ো অঙ্কের নয়ছয় হচ্ছিল। স্থানীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মীকে এই অর্থের নামে অনেক টাকা দেওয়া হচ্ছিল। তা প্রকৃত অর্থেই গ্র্যাচুইটি না অন্য কোনো অর্থ, তা জানার সুযোগ ছিল না। এ জন্য এ খাতের ব্যয়ে শৃঙ্খলা আনার স্বার্থে আইনে এ বিষয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্র্যাচুইটির জন্য আলাদা তহবিল থাকবে এবং তা ট্রাস্টির মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। যাতে কর কর্মকর্তারা বিষয়টি যাচাই করতে পারে।

অবশ্য আয়কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্র্যাচুইটির ব্যয় অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো অনুমোদন নিতে চাইবে না। কেননা এটি করতে গেলে তার চলতি মূলধনে ঘাটতি হবে। ফলে চাকরি শেষে তা কর্মীর ঘাড়েই পড়তে পারে।

অবশ্য গ্র্যাচুইটি বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের তহবিল অন্য কোথাও বিনিয়োগের আইনগত সুযোগ নেই বলে জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।