করোনার কারণে ওয়াসায় পানির বিল আদায় অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। গত ৩ মাস ধরে পানির মোট বিলের ৩০ শতাংশও আদায় হয়নি। ফলে চরম আর্থিক সংকটের মুখে এফডিআরের টাকা ভেঙে ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে হচ্ছে। বিল আদায় না হওয়ার কারণে পুঞ্জীভূত বকেয়া টাকার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, বিরাজমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে ওয়াসা বড়ো ধরনের সংকটে পড়বে। তাই জুন মাসে ২০ কোটি টাকা আদায়ের টার্গেট করা হয়েছে। তবে গত কয়েক মাস যাবত্ রাজস্ব বিভাগে শীর্ষ পর্যায়ে তিনটি পদ খালি থাকায় এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
কর্মকর্তারা জানান, পানির বিল, নলকূপের কর ও এফডিআরের মুনাফা হলো ওয়াসার আয়ের উত্স। গত মার্চ মাসে দেশে করোনা রোগের বিস্তার শুরু হয়। পরে সাধারণ ছুটির কারণে দীর্ঘ সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ও ব্যাংক বিমা বন্ধ ছিল। এ সময় পানির কোনো বিল আদায় হয়নি। পরবর্তী সময়ে সাধারণ ছুটি বাতিল হলেও পানির বিল আদায়ে গ্রাহকদের তেমন সাড়া মিলছে না। ফলে ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটাতে সমস্যা হচ্ছে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে বছরে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বিপরীতে বছরে আয় ১১০ থেকে ১১২ কোটির বেশি হয় না।
এ প্রসঙ্গে ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, গত ২ মাসে পানি বিল আদায় একেবারে কম। তবে জুন মাসে আমরা পানি বিল খাতে ২০ কোটি টাকা আদায়ের টার্গেট করেছি। ফলে জুন মাসের পর অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছি।
