প্লাস্টিক সার্জারিতে বয়স গোপন করেন মেলানিয়া!

আপডেট : ১৬ জুন ২০২০, ২৩:০১

প্লাস্টিক সার্জারির কথা বলেননি। বলেননি আসল বয়স। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প বিয়ের আগে এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন করেন বলে নতুন একটি বইয়ে দাবি করেছেন ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক ম্যারি জর্ডান। শিগগিরই বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার আগে বইয়ের কিছু চৌম্বক অংশ নিয়ে পোস্টে লিখেছেন জর্ডান। এই তথ্য সামনে আসার পর বইটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ‘দ্য আর্ট অব হার ডিল: দ্য আনটোল্ড               স্টোরি অব মেলানিয়া ট্রাম্প’ শিরোনামে এই বইয়ে শতাধিক মানুষের সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে।

জর্ডানের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া হোয়াইট হাউজে যেতে বেশ সময় নিয়েছিলেন। কেন তিনি দেরি করে হোয়াইট হাউজে যান, সেটিও বইয়ে লিখেছেন জর্ডান। তার দাবি, বিয়ের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে মেলানিয়ার যে চুক্তি হয়েছিল সেটি পাকাপাকি না হওয়া পর্যন্ত তিনি হোয়াইট হাউজে যেতে চাননি। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েক জনের উদ্ধৃতি দিয়ে জর্ডান লিখেছেন, মেলানিয়া তার সংসারের একমাত্র সন্তান ব্যারনের ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে বিবাহ-পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক চুক্তি শেষ করার তাগিদ দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হন মেলানিয়া। এই ধাক্কা সামলাতে সময় নেন তিনি। এরপর ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে চুক্তিতে জোর দেন। ব্যারনকে ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসা থেকে বাদ দেওয়া হবে না, এই নিশ্চয়তা পেয়ে তবেই তিনি হোয়াইট হাউজে যান বলে বইয়ে দাবি করেছেন জর্ডান।

বইতে বলা হয়, মেলানিয়া খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী, স্থির ও কঠিন হূদয়ের। তিনি ইচ্ছে করেই বন্ধুহীন জীবনযাপন করেন। বেশির ভাগ সময় তিনি কাটান ছেলে ব্যারন (১৪) ও নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে। তবে আলাদা ঘরে ঘুমানো ও নিজেদের আলাদা রুটিন সত্ত্বেও ট্রাম্প-মেলানিয়া একে অপরকে খুব ভালোবাসেন বলে উল্লেখ করেন লেখক।

বইয়ে আরে থাকছে, ট্রাম্পের প্রথম ঘরের কন্যা ইভানকা ট্রাম্পের সঙ্গে সদ্ভাব নেই মেলানিয়ার। ইভানকাকে গোপনে ‘দ্য প্রিন্সেস’ বলে ডাকেন তিনি, অন্যদিকে খুব কম কথা বলার কারণে ইভানকা মেলানিয়াকে ডাকেন ‘দ্য পোট্রেট’ বলে। আর ইভানকা নাকি মেলানিয়ার হোয়াইট হাউজে আসা আরো বিলম্ব করতে চেয়েছেন। ফার্স্ট লেডির অফিসের নাম পরিবর্তন করে ফার্স্ট ফ্যামিলি অফিস রাখার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ইভানকা।

এই বইয়ে আরো থাকছে, ইভানকা ও মেলানিয়া এই দুই নারীই নিজস্ব উপায়ে ট্রাম্পের ওপর প্রভাব খাটান। হোয়াইট হাউজের দুই প্রান্তে তাদের দুজনের অফিস। শুধু রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বড়ো কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, আমেরিকার আলোচিত-সমালোচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মোট তিন বিয়ে—ইভানা ট্রাম্প, মারলা ম্যাপেলস এবং মেলানিয়া ট্রাম্প (বর্তমান স্ত্রী)। ইভানার সংসারে তার তিন সন্তান।