কুয়েতে তিন কর্মকর্তাকে ৫৭ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন পাপুল

আপডেট : ১৬ জুন ২০২০, ২৩:০৩

মানব পাচারের ব্যবসা অব্যাহত রাখতে কুয়েতের এক জন আমলাসহ তিন কর্মকর্তাকে ২১ লাখ দিনার (বাংলাদেশি টাকা ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ) ঘুষ দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল। তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

আরব টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, মানব পাচার ও অর্থ পাচার নিয়ে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ঘুষ নিয়ে মানব পাচার ও অর্থ পাচারে সহায়তা করেছেন কুয়েতের এমন তিন জন সরকারি কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেছেন পাপুল। একজন কুয়েতের একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত, একজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমলা আর শেষজন দেশটির এক বেসামরিক নাগরিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে ১১ লাখ       কুয়েতি দিনারের চেক ও নগদ ১০ লাখ কুয়েতি দিনার দেন পাপুল। বিনিময়ে অবৈধভাবে কর্মী নিতে সহায়তা করেছিলেন ঐ কর্মকর্তা। কুয়েতের সরকারি কৌঁসুলিদের কাছে ঐ চেকের একটি কপিও উপস্থাপন করেছেন এমপি পাপুল।

কুয়েতের তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, বাংলাদেশের আটক এমপিকে মদত দিয়েছেন দেশটির অন্তত সাত জন বিশিষ্ট নাগরিক। ঐ সাত জনের মধ্যে কুয়েতের সাবেক ও বর্তমান তিন এমপিও রয়েছেন।

এদিকে কুয়েতে আটক সংসদ সদস্য  কাজী পাপুলকে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত। যদিও আদালতে পাপুলের আইনজীবী নাসের আল-হাসবান যে কোনো শর্তে বা গ্যারান্টিতে তার মক্কেলের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, অভিযুক্ত কাজী পাপুল তার দেশের একজন সংসদ সদস্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কোনোভাবেই কুয়েত থেকে পালিয়ে যাবেন না। আদালত তার আবেদনে সাড়া না দিয়ে কাজী পাপুলকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রাখতে বলেছেন।

মানব পাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে গত ৬ জুন মিশরেফ আবাসিক এলাকার বাসা থেকে কাজী পাপুলকে গ্রেফতার করেন কুয়েতের সিআইডি সদস্যরা। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। কুয়েতের সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে আনা মানব পাচারের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকর্মী সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে তাদেরকে কুয়েতে নিয়ে এসেছেন কাজী পাপুল।

এদিকে কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে চলমান মানবপাচারের অভিযোগের তদন্তে কুয়েতের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষও (নাজাহা) যুক্ত হচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবে। কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ বলেছেন, ভিসা-বাণিজ্য বন্ধ করা এখন তাদের কাজের অন্যতম অগ্রাধিকার।