বায়ার্ন মিউনিখ টানা অষ্টমবারের মতো বুন্দেশলিগা জিতলেও তাদেরকে শিরোপা উদ্যাপন করতে হয়েছে প্রায় দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে।
গত মঙ্গলবার রাতে ওয়ের্ডার ব্রেমানের বিরুদ্ধে ১-০ জয়ে গোলটি করেন রবার্ট লেভানডোভস্কি। বিপক্ষের মাঠে বিরতির আগেই গোলটি করেন পোল্যান্ড স্ট্রাইকার। দুই খেলা বাকি থাকতেই অসাধারণ এই নজিরটি গড়ল বায়ার্ন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের চেয়ে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেই এবারের লিগটিও জিতে নেয় জার্মানির সবচাইতে বিখ্যাত ফুটবল ক্লাবটি।
লেভানডোভস্কি চলতি মৌসুমে এ নিয়ে ৩১ গোল করলেন। লিগটিতে কোনো বিদেশি খেলোয়াড়ের করা সর্বাধিক গোলের রেকর্ডটিরও সমকক্ষ হলেন এই পোলিশ। রেকর্ডটি গড়েছিলেন বর্তমানে আর্সেনালে খেলা পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াং। ২০১৬-১৭ মৌসুমে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে খেলার সময় ৩১ গোল করেছিলেন তিনি।
এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা শেষে এদিন খেলতে নামেন লেভানডোভস্কি। এখন তার সামনে লক্ষ্য জার্ড মুলারের এক মৌসুমে করা ৪০ গোলের রেকর্ডটি ভাঙা। মুলার ১৯৭২ সালে এই নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন। লেভানডোভস্কি অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে ভালো নৈপুণ্যে আছেন। কেননা বায়ার্নের হয়ে সর্বশেষ ১০ খেলায় ৯ গোল করেছেন তিনি। করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যেই আবার খেলা চালুর পর জার্মান ক্লাবটিই প্রথম কোনো বড়ো ইউরোপীয় লিগ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল। যদিও অন্য লিগগুলোর মতো বায়ার্নকে খেলতে হয়েছে দর্শকহীন স্টেডিয়ামে। এ জয়ের সুবাদে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ‘ট্রেবল’ যা সম্ভব হবে জার্মান কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারলে। শিরোপা জয়ের খেলাটিতে অবশ্য গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ারেরও অবদান ছিল। কেননা দুই বার হলুদ কার্ড পেয়ে আলফনসো ডেভিসের মাঠ ছাড়া হওয়ার পর বায়ার্ন শেষ ১২ মিনিট ছিল ১০ জনের দল। ঐ সময়ে এক হাতে বিপক্ষের একটি আক্রমণ দুর্দান্তপনা দেখিয়ে রুখতে সমর্থ হয়েছিলেন এই প্রহরী।
জার্মানির সবচাইতে বড়ো রাজ্য ব্যাভারিয়ার এ ক্লাবটির লিগ জয় অবশ্য অতটা সহজ ছিল না। কেননা প্রাণঘাতী মহামারির কারণে লিগ বন্ধ হওয়ার আগে দলটি এক পর্যায়ে পয়েন্ট টেবিলে সাত নম্বরে নেমে গিয়েছিল। সেখান থেকেই কোচ হ্যানসি ফ্লিকের অধীনে ঘুরে দাঁড়ায় বায়ার্ন।
কোচ ফ্লিক তাই বলতে পারেন,‘গত কয়েক মাসে আমরা দুর্দান্ত রকমের ফুটবল খেলেছি। আমরা এখন প্রথম পদক্ষেপে সফল এবং আমাদের বড়ো লক্ষ্যটিতে পৌঁছেছি।’
ব্রেমানের খালি গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে ফুটবলারদের উত্সবে মাতোয়ারা হবার মধ্যেই তিনি আরো বলেন,‘তবে এখনো আমাদের লক্ষ্যের মধ্যে আছে কাপ। এরপর আছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলাগুলো এবং আমাদেরকে চেলসির বিরুদ্ধে উতরাতে হবে। জার্মান জাতীয় দলের কোচ জোয়াকিম লো’র সহকারী ফ্লিক গেল নভেম্বরে নিকো কোভাচের স্থলাভিষিক্ত হন। আইনট্রাখট ফ্রাংকফুর্টের কাছে ৫-১ গোলের হারের পরই বরখাস্ত হয়েছিলেন কোভাচ। ফ্লিক অবশ্য তার প্রথম ম্যাচেই বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে জিতিয়েছিলেন বায়ার্নকে।
