বৃক্ষরোপণ কেন জরুরি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ২১:৩০

বৃক্ষের সহিত মানুষের জীবন নিবিড়ভাবে জড়িত। মানুষসহ প্রাণিকুলের বাঁচিয়া থাকিবার জন্য বৃক্ষ একটি অপরিহার্য উপাদান। অথচ মানুষ তাহার হীন স্বার্থে দেদার বন উজাড় করিতেছে, যাহা চলিতে থাকিলে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যই অতিদ্রুত ঝুঁকির মধ্যে পড়িবে। যেই সংখ্যক বৃক্ষ উজাড় হইতেছে তাহা ভাবিলেই চমকাইয়া উঠিতে হয়। মাত্র কয়েক দশক আগেও পৃথিবীর মোট স্থলভূমির ৩১ শতাংশ ছিল বন। এখন তাহা কি আছে? ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ বা ডব্লিউডব্লিউএলের মতে, প্রতি বত্সর ১ কোটি ৮০ লক্ষ একর জমির গাছ উজাড় হইতেছে। অর্থাত্ প্রতি মিনিটে ২৭টি ফুটবল মাঠের সমপরিমাণ জায়গা হইতে বন উজাড় হইতেছে! অ্যামাজন ফরেস্টকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। গত ৫০ বত্সরে ইহার ১৭ শতাংশ বন উজাড় হইয়াছে। অথচ বিকল্প হিসাবে সেই হারে বৃক্ষরোপণ হইতেছে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটি আরো করুণ। বনাঞ্চল ও বৃক্ষ উজাড় হওয়ার কারণে আমরা ইতিমধ্যেই বহু জীববৈচিত্র্য হারাইয়াছি। বহু বন এখন নামে আছে, কার্যত নাই। বন রক্ষায় আইনশৃঙ্খলার প্রয়োগও দুর্বল প্রতীয়মান হয়।

আশার কথা হইল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বন ও বৃক্ষ নিঃশেষ হইয়া যাইবার বিষয়টি অনুধাবন করিয়াছেন। মঙ্গলবার তিনি তাহার দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে অন্তত তিনটি করিয়া বৃক্ষ লাগাইবার আহ্বান জানাইয়াছেন। উল্লেখ্য, পহেলা আষাঢ় প্রধানমন্ত্রী তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করিয়াছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান অনুসরণ করিলে একটি উদাহরণ তৈরি হইবে এবং দেশের সাধারণ মানুষও আগাইয়া আসিবে বলিয়া আমরা মনে করি। বাংলাদেশে বনভূমি থাকা উচিত ২৫ শতাংশ; কিন্তু বর্তমানে আছে মাত্র ১৬ শতাংশ। এই ঘাটতি আমাদের বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পূরণ করা জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। ইহা সত্য যে, সরকার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়াছে এবং কিছু পরিকল্পনা হাতে লইয়াছে; কিন্তু আরো কিছু করিবার আছে বলিয়া আমরা মনে করি। যেমন, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করিতে হইবে। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষকদের মাধ্যমে এবং কারিকুলামে বৃক্ষরোপণ বিষয়ে সচেতন করিতে হইবে। সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কের পাশে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আশপাশে, বিদ্যালয়ে এবং ফাঁকা জায়গায় বৃক্ষরোপণে উত্সাহিত করিতে হইবে। এই ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও ব্যাপক ভূমিকা রাখিতে পারে। সর্বোপরি মানুষ সচেতন হইলেই দেশের বন রক্ষা ও অধিক বনায়ন কোনো কঠিন কাজ নহে। ইহার সহিত পরিকল্পিত বনায়নের কথাও চিন্তায় রাখিতে হইবে। এক হিসাবে দেখা গিয়াছে, বাংলাদেশে প্রতি তিনটি বৃক্ষ কর্তনের বিপরীতে একটি বৃক্ষরোপণ করা হইতেছে। এহেন বিপর্যয় হইতে মুক্তির একটাই উপায়, তাহা হইল অধিক বৃক্ষরোপণ। অফুরন্ত সৌন্দর্যের এক মধুর নিকুঞ্জ আমাদের এই পৃথিবী। ইহা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাইবার আগেই ইহাকে রক্ষা করিবার দায় প্রতিটি মানুষের উপর বর্তায়।