ফেসবুক বর্তমান সময়ের একটি অতি পরিচিত সময় কাটানোর জন্য চলমান একটি মাধ্যম। যে কোনো জায়গায় যে কোনো সময় আমরা এর ব্যবহার করতে পারি।। ফেসবুক বিশ্ব সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট যা ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিতে বিনামূল্যে সদস্য হওয়া যায়। ব্যবহারকারীরা বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী হালনাগাদ ও আদানপ্রদান করতে পারেন, সেই সঙ্গে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চলভিক্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারেন। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যকার উত্তম জানাশোনাকে উপলক্ষ্য করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত বইয়ের নাম থেকে এই ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয়েছে।
এই ফেসবুক আমাদের যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট করে ঠিক তেমনি অতি মূল্যবান আনন্দও দিয়ে থাকে। আনন্দ অতি মূল্যবান কারণ এটা সবাই সব কিছু থেকে পায় না। এখানে আমরা এমন সব বন্ধু পাই যাদের সঙ্গে ফেসবুক না থাকলে কখনো হয়তো পরিচয় তো দূরের ব্যাপার তাদের নামও জানা হতো না। আবার আমাদের ফেলে আসা বন্ধুদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ হচ্ছে। তাদের কাছে পেয়ে যে আনন্দ আমরা পাই তার সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন। কেউ কেউ গ্রুপভিত্তিকভাবে নিজেদের আরো কাছে থাকার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্নভাবে তারা প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করছে যেখানে সবাই একসঙ্গে আবার নতুন উদ্দামে আনন্দে শামিল হচ্ছেন। সে এক অসংজ্ঞায়িত অনুভব। আমাদের খুব কাছের মানুষকেও এর মাধ্যমে নতুন করে চিনতে পারি। তাদেরকে এমনভাবে জানতে পারি তারা এত কাছে থাকার পরও যেন অচেনা ছিল। আপন জন এখানে আরো আপন হয়ে যায়। দূর-দূরান্তে থাকার পরও যেন সবাই খুবই কাছে আছি। কে কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কী খাচ্ছে, কী রোগের কী চিকিত্সা, কেমন করে সাজতে হয়, কীভাবে রান্না করতে হয়। কাকে কেমন লাগছে, কে কিসে দুঃখ পেয়েছে, কে কিসে আনন্দ পেয়েছে সবই জানা যায়। কেউবা আছেন শুধুই নিজের ছবি দিতেই পছন্দ করেন বেশি। ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত যে কোনো রকম সংবাদ পেয়ে যাই। এমনকি লাইভে এসে সরাসরিও আমরা তা দেখতে পারি। এর মাধ্যমে অনেক অনলাইন বিজনেস করে চলেছে। লাইভে এসে তাদের বিভিন্ন প্রোডাক্ট শো করছে আর সবাই অতি সহজে তা হাতে পেয়ে যাচ্ছে। আমরা পত্রিকার খবরগুলো অনলাইনের মাধ্যমে পেয়ে যাই পত্রিকা হাতে পাওয়ার আগেই। বর্তমানে লকডাউনে থাকার পরও শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে পড়াশুনা করতে পারছে খুবই সহজে। টিচার লাইভে এসে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে ফেসবুকে অনলাইন সাহিত্য চর্চা ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। এর মাধ্যমে আমরা এমন কিছু সংখ্যক লেখক পাই যারা কিনা কোনো পেশাদার লেখক নয়। একেক জনের লেখা পড়ে অবাক হতে হয়। এত চমত্কার করে তারা কীভাবে লেখেন! এক সময় ডাইরি লেখার প্রচলন ছিল অনেকের মাঝে, তাও আবার গোপনে। তেমন লেখকদের এখানেও পাওয়া যায় তবে তারা থাকে ছদ্মনামে। এখন ফেসবুককে আবার সেই ডায়রির মতোই মনে হয়। তবে গোপন ডায়রি না, “খোলা ডায়রি” যে কেউ দেখতে পারবে। পড়তে পারবে। ভালো লাগলে লাইক রিয়েক্ট দিচ্ছে, মন্তব্য করছে। ভালো লাগলে ভালো মন্তব্য, খারাপ লাগলে তাও জানাচ্ছে, কোনো কোনো লেখায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এক কথায় অসাধারণ অনুভূতি। অনলাইন সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে প্রসারিত হচ্ছে। বিভিন্ন নামে এইসব গ্রুপ পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে উঠে আসছে নবীন লেখক, কবি, প্রবন্ধকার, সাহিত্যিক। তাই বলা চলে ভালোমন্দ সব মাধ্যমেই আছে তবে আমাদের খুঁজে নিতে হবে অবশ্যই ভালো দিকটা। তবেই তো পাবো নবীন সূর্যের আলোর মতো নির্মল কিছু গুণি লেখক।
n লেখক :সাবেক শিক্ষার্থী,
নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ
