কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ফের তলিয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের নিম্নাঞ্চল। পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়ি-ঘর ও রাস্তা-ঘাট। বাঁধের নিম্নাঞ্চল সড়কের কোথাও হাঁটুপানি। রান্নাঘর ও ঘরের মেঝে ময়লা পানিতে একাকার। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বাঁধের ভেতরের লোকজন। গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবারের বৃষ্টির পানি জমে নিম্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। যদিও ডিএনডির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজের ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে এ দুর্ভোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
জানা গেছে, ডিএনডির অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেনের সঙ্গে বাসাবাড়ির স্যুয়ারেজ লাইন একাকার হয়ে গেছে। এতে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করেছে। ফলে দুর্ভোগ আরো চরমে পৌঁছেছে। গতকাল সরজমিন সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী, নয়াপাড়া, গোদনাইল, মিজমিজ, জালকুড়ি, সানারপাড়, উত্তর ভুঁইগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। কোনো কোনো নিচু এলাকা কয়েক মাস ধরে ডুবে আছে বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। কদমতলীর বাসিন্দা এম এ মাসউদ বাদল বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমাদের বাড়িঘর ও রাস্তা ডুবে আছে।’
ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় ফেজ) প্রকল্পের এক সেনা কর্মকর্তা জানান, প্রজেক্টের ভেতর পানি চলাচলে কোনো বাধা নেই। শিমরাইল পাম্প হাউজে পানি আসতে কোনো বাধা হলে আমরা দ্রুত গতিতে ব্যবস্থা নিয়ে বাধা দূর করি। আমরা পাম্প হাউজের সামনে পানির সঙ্গে আসা আবর্জনা সরানোর জন্যও প্রয়োজনীয় শ্রমিক সরবরাহ করেছি। এর পরও কোথাও কোথাও পানি আটকে থাকার খবর পেলে আমরা দ্রুতই ব্যবস্থা নেব। শিমরাইলের পাম্প হাউজের দুটি পাম্প নষ্ট, দুটি চালু আছে। এর সঙ্গে আরও ছয়টি ছোটো পাম্প বুধবার চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ডিএনডির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পাম্প হাউজটি সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে। শিমরাইলের পাম্প হাউজে গিয়ে দেখা যায়, ৫১২ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন চারটি পাম্পের মধ্যে দুটি পাম্প চালু রয়েছে। ঢাকা যান্ত্রিক পাম্প হাউজ (শিমরাইল পাম্প হাউজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাম প্রসাদ বাছার জানান, ‘৫০-৬০ বছরের পুরোনো এ পাম্প চালু রাখাই কঠিন।’ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল কবির জানান, ‘প্রকল্পের বাকি কাজ আগামী এক বছরে শেষ হলে জলাবদ্ধাতা থেকে মুক্তি পাবে ডিএনডিবাসী।’
